রংপুর মেডিকেলের ডরমিটরিতে মিলল চিকিৎসকের রক্তাক্ত-নগ্ন মরদেহ


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুলাই ২, ২০২৪, ৭:২৪ অপরাহ্ণ /
রংপুর মেডিকেলের ডরমিটরিতে মিলল চিকিৎসকের রক্তাক্ত-নগ্ন মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ডরমিটরি থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুলাই) বেলা ১১টায় হাসপাতালের শেখ রাসেল ডরমিটরির পঞ্চমতলার একটি কক্ষে নগ্ন অবস্থায় মরদেহটি পড়েছিল।

ওই চিকিৎসকের নাম মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি আগামী ৬ জুলাই একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে মেডিকেল কলেজে এসেছিলেন। আক্তারুজ্জামান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এখন তিনি এই মেডিকেল কলেজ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করছেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজের শেখ রাসেল ডরমিটরি ভবনের পঞ্চমতলার সিক্স-এফ নম্বর কক্ষ থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। এ সময় দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ওই চিকিৎসকের নগ্ন মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আক্তারুজ্জামান পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে ডিপ্লোমা ইন ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। রমেক পরীক্ষাকেন্দ্রে ৬ জুলাই ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করে আগামী বছর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘সেবক’ নামে যে স্কিমের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে যেতে কোনো অসুবিধা নেই বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষকদের সুপারগ্রেড দেওয়ার দাবিও জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করে আগামী বছর সেবক নামে যে স্কিম হচ্ছে, সেখানে সবার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা হবে, আমরা সেখানে যাব। কোনো অসুবিধা তো নেই। দেশের স্বার্থে সবার জন্য যা হবে, আমাদের জন্য তা হবে।

এর আগে ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয়ের শুভযাত্রা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের স্পষ্টীকরণ’ শিরোনামে এক বিজ্ঞপ্তি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৬৫ বছরে অবসর সুবিধা, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সার্ভিস প্রটেকশন ও পে প্রটেকশন সুবিধা, পিআরএল ছুটি বহালের কথা জানানো হয়।

এ ব্যাখ্যার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, এতদিন কোথায় ছিল? আমরা এতদিন বিবৃতি-স্মারকলিপি দিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি। সাড়ে তিন মাস আগে যদি আমরা জানতাম বয়সসীমা ঠিকই আছে, তাহলে শিক্ষকরা এত ক্ষুব্ধ হতেন না। আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য এখন একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আমরা বিশ্বাস করি না। ২০১৫ সালে তারা আমাদের রাস্তায় নামিয়েছে। সুপার গ্রেড আমাদের দেয়নি। তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, একটি কমিটিও হয়েছে। তবে নয় বছরেও আমরা সুপার গ্রেড পাইনি। তখনও আশ্বাস দিয়েছে। সুতরাং আশ্বাস দিলে হবে না। আমাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বসতে হবে। আমাদের সুপার গ্রেড দিতেই হবে।

শিক্ষার্থীদের স্পেশাল ক্লাস-পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে অধ্যাপক নিজামুল হক বলেন, এটি দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে না নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। তবে যে ক্ষতি হবে, স্পেশাল ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে পুষিয়ে দেওয়া হবে।