বরিশালে স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও যৌতুকে বলি ২ সন্তানের মা


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৪, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ /
বরিশালে স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও যৌতুকে বলি ২ সন্তানের মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাহুতপাড়া গ্রামে স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেয়া ও যৌতুকের দাবিতে দুই ছেলে সন্তানের মা রিবিকা বালাকে (৩৫) হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতর ভাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছ। স্বামীর নাম আগৈলঝাড়ার রাহুতপাড়া গ্রামের গৌরাঙ্গ বালার ছেলে সঞ্জিত বালা। স্বামীর পরিবারের দাবি আত্মহত্যা।

মৃত রিবিকা বালার বড় ভাই পাশ্ববর্তী উপজেলার ডাসার থানার নবগ্রাম এলাকার উপেন্দ্র নাথ বাড়ৈর ছেলে সুবির বাড়ৈ অভিযোগে বলেন, তার বোনজামাতা আগৈলঝাড়ার রাহুতপাড়া গ্রামের গৌরাঙ্গ বালার ছেলে সঞ্জিত বালা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে। প্রায়ই সে ওই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলত। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পরকীয়ার পাশাপাশি যৌতুকের দাবিতে সঞ্জিত বালা প্রায়ই তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে শৈশব বালা (১৩) এবং শুভ বালা (৫) নামের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সুবির বাড়ৈ জানান, সোমবার দিবাগত রাতে তার বোনের সাথে স্বামী সঞ্জিতের তুমুল ঝগড়া হয়। তাদের ধারনা বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সঞ্জিতের শারীরিক নির্যাতনে তার বোন রিবিকা মারা গেছে।

পরবর্তীতে সঞ্জিত তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় লাশ বাড়ির পাশ্ববর্তী বাগানের একটি গাব গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে বলে এলাকায় আত্মহত্যার কথা রটিয়ে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সঞ্জিত বালা আত্মগোপন করেছেন বলেও তিনি জানান।

বোনের মৃত্যু হত্যা দাবি করে তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানান। অভিযুক্ত সঞ্জিত বালা আত্মগোপনে থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আলম চাঁদ বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ৯ জুলাই মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে রিবিকা বালার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে এসআই শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় প্রাথমিকভাবে ইউডি মামলা দায়েরের পর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে।

পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় মৃতের বাবার পরিবার থেকে এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।