চরফ্যাশনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যানের জমি দখলের চেষ্টা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩ মঙ্গলবার, ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
চরফ্যাশনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যানের জমি দখলের চেষ্টা

চরফ্যাশন(ভোলা) প্রতিনিধিঃ চরফ্যাশনে নীলকমলের আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধীয় জমি দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন।

 

গত২৩ মার্চ চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে দখলের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের ভোগদখলীয় মালিক স্কুল শিক্ষক মাওঃ সুলতান আহমেদ বাধা দিলে তাদেরকে মারধর করার চেষ্টা করে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

ঘটনার দিন (২৩ মার্চ) সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন সহ তার দুই ভাইকে বিবাদী করে দুলার হাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা ওই জমি দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। আবারো একই ভাবে ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ রাখে।

স্থানীয় ও সুলতান আহমেদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর যমুনা মৌজার এস এ খতিয়ানে ৬৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৬০ শতাংশ জমি ২০০৮ সালে সুলতান আহম্মেদ নীতিমালায় বন্দোবস্ত নেয়। যার কেইস নং ২৫২ F / ২০০৮-০৯ এবং দাগ নং ১৫২৯, ১৫৩০। উক্ত জমির খতিয়ান খুলে খাজনা পরিশোধ করে আসছে। জমির পাস দিয়ে বয়ে গেছে সরকারি চলাচলের রাস্তা। আর রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুলতান আহমেদের বন্দোবস্তীয় জমি। শুধু তাই নয় ওই জমির পিছনে সুলতান আহমেদের ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি তৈরি করে দীর্ঘ বছর ভোগ দখলে আছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথটি বন্দোবস্তিয় জমিতে অবস্থিত।

 

সম্প্রতি নীলকমল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওই জমিতে কুদৃষ্টি পড়ে। বাড়ির একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিখন।

তাই চেয়ারম্যান তার বৃদ্ধ মা মাসুমা খানম এর নামে ঘোষেরহাট বিআইডব্লিউটিএ’র দিয়ারা ৮৯৫ নং দাগে ৩০ শতাংশ খাস জমি এবং সুলতান আহমেদের ২০০৮ সালের বন্দোবস্তিয় জমি সহ মোট ৯৯ শতাংশ জমি ২০১৫ সালে দোকর বন্দোবস্ত নেয়। তৎকালীন সময়ে তার মা মাসুমা খানমের মৃত্যু হলে ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন ও তার অপর দুই ভাইয়ের নামে খতিয়ান খুলে নেয়।

সুলতান আহমেদ বিষয়টি সংশোধনের লক্ষে ২০১৫ সালের ভূমি বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে রেকর্ড সংশোধনের জন্য চরফ্যাশন যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানী মামলা রুজু করেন। যার নং ২৬ /২০২০ইং। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে উক্ত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ২৩ মার্চ ও ৮ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিখন তার দলবল নিয়ে সুলতান আহমেদের দখলীয় পুকুরে পানি দিয়ে তা দখলে নিতে চেষ্টা করে।

 

সুলতান আরো অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতা থাকাকালীন নিজ স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ নামা সনদ ২০১৫ সালে ওই বন্দোবস্ত কেইসের সাথে দাখিল করে। ওই সনদে চেয়ারম্যান তিন ভাইকে শুধুই ওয়ারীশ দেখায়। তাতে ৩ জন ওয়ারিশ হলেও প্রকৃত তাদের ওয়ারিশ ১২ জন। একজন চেয়ারমম্যান এমন জালিয়াতিতে এলাকায় এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

 

এ ঘটনায় ইকবাল হোসেন লিখন জানান,২০১৫ সালে দিয়ারা খতিয়ান দিয়ে আমার মায়ের নামে বন্ধোবস্ত নিয়েছি। মায়ের মৃত্যুতে আমি সহ অপর দুই ভাইয়ের নামে খতিয়ান খুলেছি। আর সুলতান আহম্মেদ এস এ খতিয়ান দিয়ে ২০০৮ সালে বন্ধোবস্ত নিয়েছে। সে আদালতে মামলা করছে সত্য। মামলা রায় পেলে আমি জমি ছেড়ে দিব।দুলারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ মুরাদ হোসেন জানান অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]