কদর বেড়েছে খাইট্টা’র

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুলাই ১৭ শনিবার, ২০২১, ০৪:৫২ অপরাহ্ণ
কদর বেড়েছে খাইট্টা’র

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আর মাত্র তিন দিন পরই পালিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়েছে মাংস কাটার খাইট্টা’র কদর।

 

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স’ মিলে (কাঠ চেরাই মিল) দেখা যায়, গাছের গুঁড়ি করাতে ফেলে ছোট ছোট গোল আকৃতির টুকরা তৈরি করা হচ্ছে। এই গোল টুকরাগুলোই মাংস কাটার খাইট্টা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

কোথাও কোথাও স’ মিল থেকে খাইট্টাগুলো সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ভ্যানে করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। আকার অনুযায়ী একেকটি খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, খাইট্টা সব কাঠ দিয়ে তৈরি করা যায় না। এটি তৈরি করতে হয় এমন কাঠ দিয়ে, যাতে চাপাতির (মাংস কাটার যন্ত্র) কোপে কাঠের গুঁড়া না ওঠে। রাজধানীতে কোরবানির মাংস কাটার জন্য তৈরি করা এসব খাইট্টার অধিকাংশই তেঁতুল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি।

 

তেতুল গাছের কাঠ দিয়ে খাইট্টা বানানোর কারণ হিসেবে তারা জানান, তেতুল কাঠে সহজে চাপাতির কোপ বসবে না। তাই কাঠের গুঁড়াও উঠবে না। ফলে মাংস নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

বাড্ডায় রাস্তার ধারে এমনই একটি দোকান সাজিয়ে বসা মো. মিলন বলেন, ‘দুদিন ধরে এখানে বিক্রি করছি। দুদিনে খুব বেশি বিক্রি হয়নি। ঈদের আগে এখনও তিন দিন আছে। আশা করি যা এনেছি সব বিক্রি হয়ে যাবে। আকার অনুযায়ী একটা খাইট্টা ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আছি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে। রিকশা চালিয়ে ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকি। ৪-৫ বছর ধরে আমি কোরবানির ঈদের আগে এই ব্যবসা করছি। রিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তার চাইতে এখান থেকে আয় বেশি হয়। পরিশ্রমও কম। কিন্তু সব সময় এই ব্যবসা করা যায় না। ঈদের পরের দিন থেকে আবার রিকশা চালাতে হবে।

 

বাড্ডার একটি স’ মিল থেকে ভ্যানে করে খাইট্টা কিনে নিয়ে যাওয়া আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাসা খিলগাঁওয়ে। ঢাকায় আছি ১৫ বছরের বেশি। এখান থেকে খাইট্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। বাসার সামনে অবসর সময়ে বিক্রি করব। একেকটি ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

 

স’ মিলটিতে খাইট্টা বানানোর কাজ করা খায়রুল বলেন, ‘মাংস কাটার খাইট্টা সব ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি করা যায় না। ঢাকায় যে খাইট্টা পাওয়া যায় তার প্রায় সবই তেঁতুল কাঠ দিয়ে তৈরি। তেঁতুল কাঠ খুব শক্ত ও চিমটে। এতে সহজে কোপ বসে না। ফলে মাংস কাটতে কোনো সমস্যা হয় না।

 

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬ বছর স’ মিলে কাজ করছি। সচরাচর আমরা মাংস কাটার খাইট্টা তৈরি করি না। তবে প্রতিবছর কোরবানীর ঈদ আসলেই এ কাজ করি। ইতোমধ্যে ১০ হাজার পিসের বেশি বিক্রি করেছি। ঈদের আগে এখনও তিন দিন আছে। এ সময়ে আরও বেশি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]