সরকারি নির্দেশনার পরও বরিশালে ছাড়েনি লঞ্চ, চলছে বাস

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুলাই ৩১ শনিবার, ২০২১, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
সরকারি নির্দেশনার পরও বরিশালে ছাড়েনি লঞ্চ, চলছে বাস

ক্রাইমট্রেস ডেস্ক || সরকারি নির্দেশনার পরও বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকা রুটের কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। লঞ্চ মালিকরা যাত্রী না হওয়ায় কথা বললেও রাত ৮টার পর বন্দরে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

 

বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অবশ্য রাতেই বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় আসার সুবিধার্থে শনিবার সন্ধ্যার পর বাস ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। রোববার দুপুর পর্যন্ত বাস ও লঞ্চ চলাচল করতে পারবে বলে সিদ্ধান্তে বলা হয়।

 

এরপর বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিএমএফ পরিবহনের কয়েকটি বাস ছেড়ে যায়। বন্দরে সাতটি লঞ্চ থাকলেও রাত ১০টা পর্যন্ত কোনোটাই ছাড়েনি।

 

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, সকালে যদি সরকার বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত দিত, তাহলে হাজার হাজার মানুষকে ট্রাকে করে ঢাকায় যেতে হতো না। তাদের সামনে দিয়েই শ্রমিকরা কষ্ট করে গেছেন। তাদের শুধু দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। রাতে যাত্রীর চাপ থাকায় তারা বাস ছেড়েছেন।

 

বাস চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও বাসের যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষণার পরও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। শুধু মাওয়া পর্যন্ত যেতেই বাসগুলো ৫০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে।

 

বরিশাল জেলা বাসমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বাবলু বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা জেনেছি। কিছু বাস ঢাকার উদ্দেশে অলরেডি ছেড়ে গেছে।’

 

বাসের আগেই লঞ্চ ছাড়ার ঘোষণা আসলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়ায় বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো লঞ্চ না ছাড়ার কথা জানিয়েছেন মালিকরা।

 

এডভেঞ্চার লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘পর্যাপ্ত যাত্রী না হলে লঞ্চ ছাড়া সম্ভব নয়। খুব অল্প সংখ্যক যাত্রী রয়েছে নদী বন্দরে।’

 

সুরভী লঞ্চের পরিচালক রিয়াজুল কবির বলেন, ‘প্রশাসন থেকে আমাদের লঞ্চ ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে লঞ্চ ছাড়তে হলে আমাদের দুজন প্রথম শ্রেণির সুকানি, দুজন সারেং এবং দুজন গ্রিজারসহ আরও কিছু লোক দরকার। কিন্তু তারা এই মুহূর্তে এখানে নেই।

‘এ ছাড়া একটি লঞ্চ ঢাকা যেতে ৬০ থেকে ৭০ ব্যারেল তেল দরকার হয়। যাত্রী না হলে আমরা কীভাবে ছাড়ব লঞ্চ। লোকসান করে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়।

নদী বন্দরে যাওয়া যাত্রীরা অভিযোগ করেন, লঞ্চ ঘাটে গিয়ে আরেক ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। কষ্ট করে ঘাটে গেছেন। কিন্তু এখন শুনছেন লঞ্চ ছাড়বে না।

 

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার লঞ্চ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। যাত্রী হলে লঞ্চ একটি হলেও ছেড়ে যাবে। বন্দরে ঢাকা-বরিশাল রুটের সাতটি লঞ্চ নোঙর করা রয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বলেন, ‘ঢাকামুখী মানুষের সুবিধার্থে বাস ও লঞ্চ চলাচল কিছু সময়ের জন্য চালু করা হয়েছে। সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বাস ও লঞ্চ চালু করার জন্য।’




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]