তারাবি নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, গ্রেপ্তার ১১

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ
তারাবি নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, গ্রেপ্তার ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লক এলাকার একটি জামে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশকে ঢিল ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় পুলিশ ৩০ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এদিকে ওই মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জন হলেন- মো. হোসেন রবিন (৩৪), কফিল উদ্দিন (৩৮), আলী হায়দার (৩৫), মো. আমিরুল হক (৩৬), ইউনুছ ইবনে ফরিদ মিয়া, আজম মো. সরওয়ার, মেহেদী হাসান (২৪), সাহেদুজ্জামান (১৯), জিয়াউদ্দিন (২০), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২০) ও মাহমুদুল হক।

 

চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার এসআই সুচিতিত্রা জানিয়েছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে জোর করে মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল হয়। প্রথমদিন মসজিদের তালা ভেঙে মুসল্লিরা প্রবেশ করলেও দ্বিতীয় দিন পুলিশ গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩০ মুসল্লিকে আটক করে।

 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১১ জন জ্ঞাত ও ৮০/৯০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসআই জাকির হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহারভূক্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক মসজিদে প্রবেশ ও পুলিশের ওপর হামলা করায় রাতে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাচাই করে ২৫ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

 

চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির মসজিদ পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন বলেন, সরকারি আদেশ মেনে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন খাদেমসহ স্টাফদের নামাজের ব্যবস্থা করে সবাইকে ঘরে নামাজ পড়ার অনুরোধ করেছি।

 

কমিটির লোকজনও ঘরে নামাজ পড়ছি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল লোকজন মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে শত শত মানুষকে এনে অস্থিতিশীল করছে। প্রথম তারাবির দিন মসজিদের তালা ভেঙে মসজিদে প্রবেশ করেছ। দ্বিতীয় দিনও জোর করে শত শত লোক প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। কিন্তু এ সময় ওসির সাথে ধস্তাধস্তি হয়, পুলিশের গাড়িতে ঢিল মারে।

 

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে তারাবিসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে সরকার। সোমবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মসজিদে তারাবি ও প্রতি ওয়াক্ত নামাজে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সর্বোচ্চ ২০ জন অংশ নিতে পারবে। খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।

 

নামাজ নিয়ে যে তিন নির্দেশনা দেয়া হয় তা হলো:

১. মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

 

২. তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

 

৩. জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। তবে জুমার নামাজের ক্ষেত্রে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

 

এর আগে সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ থেকে ১৩ দফা নির্দেশনা সম্বলিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধ কার্যক্রমের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজান মাসে জুমা ও তারাবি নামাজের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দিক নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছিলো। এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজনও করা যাবে না।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]