প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নিম্নমানের হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নিম্নমানের হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মাদারীপুরের কালকিনিতে হতদরিদ্রদের দেয়া বসতঘরের করুণ অবস্থা। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এই উপহার পেয়ে খুশি না হয়ে হতাশা আর দুশ্চিন্তায় সুবিধাভোগীরা। ঘরের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় ভেঙে পড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন তারা। ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিরাও।

 

মুজিববর্ষে ঘর পেয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুরের দেলোয়ার সরদার। প্রতিবন্ধী এই রিকশাচালক সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘরে। দুই শতাংশ জমিসহ ঘর লিখে দিলেও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় তার মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। তিনি বলেন, ঘরে প্লাস্টার ঠিকমতো করেনি, রং ঠিকঠাক মতো দেয়া হয়নি।

 

আতঙ্ক আর হতাশা নিয়ে দেলোয়ার সরদারের স্ত্রী বৃষ্টি বেগম বলেন, শেখ হাসিনা ঘর দিয়েছে বাঁচানোর জন্য কিন্তু মরে গেলে কে দেখবে আমাদের।

 

শুধু দেলোয়ার সরদারই নন, তার মতো গত ২৩ জানুয়ারি উপজেলার ৪০টি পরিবার পেয়েছেন এই বসতঘর। সরকারি খালি জায়গায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত প্রত্যেকটি ঘরের সাথে রান্নাঘর, বাথরুম, সামনে খোলা বারান্দাও রয়েছে।

 

যার প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। কিন্তু এসব ঘর নির্মাণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। চারদিকে বাহারি রং করা থাকলেও ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণ কম হওয়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে। দরজা-জানালা লাগানো যাচ্ছে না ঠিকমতো। কোনরকম কাঠ দিয়ে টিনের সঙ্গে লাগানো হয়েছে চালা। যে কোনো সময় তা ঝড় বাতাসে ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কা হতদরিদ্রদের।

 

সুবিধাভোগীরা বলছেন, পিলারে ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় কাঠ জোড়া দেয়া। আমাদের দাবি, আমরা যেন ঘরের ভেতরে থাকতে পারি, আমরা যেন বাঁচতে পারি।

 

এদিকে কাজের গুণগত মান সঠিক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিরাও। কালকিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক বলেন, এত নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্যে দিয়েছে, তা ব্যর্থ করার জন্য কিছু কিছু দফতর এ কাজ করেছে।

 

প্রাধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প দুইয়ের আওতায় কালকিনি উপজেলায় আরো ৪১৯টি বসতঘর নির্মাণের কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে বাস্তবায়নকারী কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কেউ কথা বলতে রাজি নন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]