করোনায় বরিশালের শ্রমিক পরিবারে ১ মাসের খাবার ও অর্থ সহায়তার দাবি

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৬ শুক্রবার, ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
করোনায় বরিশালের শ্রমিক পরিবারে ১ মাসের খাবার ও অর্থ সহায়তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যে শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, সেই মানুষরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশ মানুষ যারা দিন আনে দিন খায় তাদের নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই সরকারের। শুধু সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধা নয়, শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দসহ ৫ দফা দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ফকিরবাড়ি রোড সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও স্কপ বরিশালের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট একে আজাদ।

 

তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ইন্স্যুরেন্স সুবিধা এবং মারা গেলে ৫ গুণ বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দিয়েছেন। কিন্তু দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ সীমাহীন শোষণ বঞ্চনায় জর্জরিত। করোনার মহামারি দেশের শ্রমজীবী মানুষকে আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প মালিকদের সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হলেও শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ সারা দেশে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, অনেকের মজুরি হ্রাস পেয়ে শ্রমজীবী মানুষের আয় কমেছে; কিন্তু ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

 

গত বছর দেশে করোনাভাইরাস শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে নিম্নআয়ের মানুষদের খাদ্য ও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু যে পরিমাণ খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

 

অ্যাডভোকেট একে আজাদ বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে কর্মহীন মানুষের জন্য নগদ সহায়তার দাবি করলে সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তালিকা তৈরিতে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে শ্রমজীবী মানুষ নগদ আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অসংগঠিত খাতের শ্রমজীবী মানুষসহ দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পূর্ণ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং সামাজিক সুরক্ষা দেয়ার জন্য আমরা দাবি করে আসছি।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলার সভাপতি এসএম জাকির হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বরিশাল মহানগরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]