তালেবানের দখলে চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরীফ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ১৫ রবিবার, ২০২১, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
তালেবানের দখলে চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরীফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরীফ দখল করে নিয়েছে তালেবান। শহরটি আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের রাজধানী। এর মাধ্যমে ২০টি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিল তালেবান। এছাড়া শনিবার তালেবান যোদ্ধাদের হাতে পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের রাজধানীরও পতন হয়।

 

রোববার (১৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে দেশটির উত্তরাঞ্চলে মাজার-ই-শরীফ শহরটিই বর্তমান আফগান সরকারের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে টিকে ছিল। শনিবার তালেবানের হাতে শহরটির পতন হয়। আর এর মাধ্যমে দেশটির রাজধানী কাবুল দখলের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যত বড় ধরনের কোনো লড়াই ছাড়াই শনিবার মাজার-ই-শরীফ শহর দখলে নেয় তালেবান। বালখ প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদের একজন আইনপ্রণেতা আব্বাস ইব্রাহিম জাদা বার্তাসংস্থা এপি’কে জানান, তালেবানের কাছে প্রথম আত্মসমর্পণ করে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী। এরপরই সরকারপন্থি যোদ্ধাদের বাহিনী এবং অন্যান্য মিলিশিয়া বাহিনীও তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

 

বিবিসি জানিয়েছে, মাজার-ই-শরীফ শহরটি ঐতিহ্যগতভাবেই তালেবান-বিরোধী শহর হিসেবে পরিচিত। মার্কিন সেনাসহ বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে দ্রুতগতিতে শহরটি দখলে নেওয়াকে তালেবানের জন্য বড় ধরনের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

মাত্র কয়েকদিন আগে আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মাজার-ই-শরীফ শহরে সফর করেছিলেন। মূলত আফগান সরকারি সেনাদেরকে উজ্জীবিত করতেই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

 

প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানে সহিংসতার কারণে নতুন করে আরও আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকে নিরাপত্তার আশায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাজধানী কাবুলে পালিয়ে গেছেন।

 

এছাড়া দখলকৃত এলাকায় নারীদেরকে জোরপূর্বক বোরকা পরিধানে বাধ্য করছে তালেবান যোদ্ধারা। এর পাশাপাশি সামাজিক নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগে তালেবান যোদ্ধারা সাধারণ মানুষকে মারধরসহ নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

মাজার-ই-শরীফ শহরটি আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। শহরটির সঙ্গে উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্ত থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্বও অনেক। এর আগে ১৯৯০-এর দশকে শহরটি সর্বশেষ দখল করেছিল তালেবান।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট শুক্রবার থেকে তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের অন্তত ২০টির রাজধানী নিজেদের দখলে নিয়েছে।

 

  প্রদেশ রাজধানী
তাখার তালোকান
কুন্দুজ কুন্দুজ
সার-ই-পাল সার-ই-পাল
সামানগান আইবাক
জাওজান শেবেরগান
বাগলান পুল-ই-খুমরি
ফারাহ ফারাহ
নিমরোজ জারাঞ্জ
বাদাখশান ফয়জাবাদ
১০ গজনি গজনি
১১ হেরাত হেরাত
১২ কান্দাহার কান্দাহার
১৩ হেলমান্দ লস্কর গাহ
১৪  উরুজগান টেরেনকোট
১৫ লোগার পুল-ই-আলম
১৬ ঘোর ফিরুজ কোহ
১৭ বাদঘিস কালা-ই নাও
১৮ পাকতিয়া গারদেজ
১৯ কুনার আসাদাবাদ
২০ বালখ মাজার-ই-শরীফ

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]