বিশ্বে জাতির পিতা হত্যাঃ বিচার ও মর্যাদা!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ১৫ রবিবার, ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বে জাতির পিতা হত্যাঃ বিচার ও মর্যাদা!

সোহেল সানিঃ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু নন, বিশ্বের অনেক দেশের জাতির পিতাকেই জীবন দিতে হয়েছে। তবে হত্যার বিচার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যতীত কোন দেশ করেনি কালক্ষেপণ করেনি তামাশা।

 বঙ্গবন্ধুর ন্যায় নিষিদ্ধ হননি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন জাতির পিতা। কোন দেশও জাতির পিতা হত্যার বৈধতা দেয়নি।

উল্লেখ্য, যে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ, করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, সেই মাতৃভূমিতেই জীবন দিয়েছেন জাতির পিতা হিসাবে অভিষিক্ত এসব মহান নেতা।

 ঔপনিবেশিক দখলদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করলেও তাদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেননি। নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন, নেদারল্যান্ডের উইলিয়াম, মেক্সিকোর হিডালগো, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বার্মার অং সান, বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু।

 “উইলিয়াম” “

খুনি গিরার্ডের ডান হাত তপ্ত লৌহ দন্ড দ্বারা এমনভাবে পোড়াতে হবে যাতে হাড় হতে মাংসপেশি চিমটি দিয়ে টেনে তোলা যায়, তার প্রতিটি অঙ্গ হতে মাংসপেশি এমনভাবে তুলতে হবে, যাতে সে প্রচন্ড কষ্ট পায় কিন্তু জীবিত থাকে।

 অধিকন্তু গিরার্ডের শরীরকে এমনভাবে ঝলসাতে হবে যাতে তার শরীর হতে মাংসপেশি মোমের মতো ঝড়ে পড়ে।

 অবশেষে তার হ্রদপিন্ডে যখন আগুনের আঁচড় লাগবে এবং পুরো শরীর অবশ হয়ে যাবে তখন তার মুন্ডু কর্তন করতে হবে।” নেদারল্যান্ডের জাতির পিতা উইলিয়াম অব অরেঞ্জের হত্যাকারী গিরার্ডের মৃত্যুদণ্ড এভাবেই কার্যকর করা হয়।

 ব্রিটিশ বিজ্ঞানৈতিহাসিক লিসা জার্ডিনের মতে মুঠো পিস্তল দিয়ে ১৫৮৪ সালের ১০ জুলাই গিরার্ড সংঘটিত এই হত্যাকান্ডই বিশ্বের কোন প্রথম জাতির পিতা বা রাষ্ট্রপ্রধান হত্যা।

 ১৫৩৩ সালের ২৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী ও ১৫৮৪ সালের ১০ জুলাই বিশ্বাসঘাতক গিরার্ডের গুলিতে নিহত উইলিয়ামকে নেদারল্যান্ডের “Father of the Matherland” (মাতৃভূমির জনক) বলা হয়।

 প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীন দেশগুলোর স্থপতিদের বলা হয় জাতির পিতা (Father of the Nation). উইলিয়াম বিশ্বের একমাত্র ভাগ্যবান রাষ্ট্রস্রষ্টা, যাঁর নামে জাতীয় সঙ্গীত “Het Wilhelmus, মূলত এটি উইলিয়ামের প্রশংসা-কীর্তন। সিন্ট অল্ডিগোন্ডের লর্ড ফিলিপস ভ্যান মার্নিক্ম এ সঙ্গীতটি রচনা করেন। শুধু তাই নয়, নেদারল্যান্ডের জাতীয় পতাকার রং লাল-সাদা-নীল হতে লাল পরিবর্তন করে অরেঞ্জ-সাদা-নীল করা হয়।

 উইলিয়াম অব অরেঞ্জের সম্মানে নেদারল্যান্ডের জাতীয় রং অরেঞ্জ করা হয়। খেলোয়াড়দের পোশাকের রংও অরেঞ্জ। হত্যাকারী ক্যাথলিক ধর্মানুসারী ফ্রান্স নাগরিক বালথসার গিরার্ড দ্বিতীয় ফিলিপের কট্টর সমর্থক ছিলেন।

 সে মনে করতো, উইলিয়াম অব অরেঞ্জ স্পেনের রাজা ও ক্যাথলিকদের শত্রু।

 ১৫৮১ সালে দ্বিতীয় ফিলিপ উইলিয়ামকে হত্যা করার জন্য ২৫ হাজার ক্রাউন পুরস্কার ঘোষণা করে। এ খবর শুনে গিরার্ড নেদারল্যান্ডে ভ্রমণের উদ্দেশ্য যান।

 ১৫৮৪ সালের মে মাসে গিরার্ড ফ্রান্সের অভিজাত পরিচয়ে নেদারল্যান্ডে আসেন।

 ১০ জুলাই উইলিয়াম অব অরেঞ্জের বাসভবন ‘ডেলফট’ (বর্তমানে প্রিন্সেনহপ) এ সাক্ষাতের অনুমতি পান। গিরার্ড বাসায় প্রবেশ করে। এসময় উইলিয়াম সিঁড়ি বেয়ে নামছিলেন।

 গিরার্ড তখনই সামনে এগিয়ে গিয়ে উইলিয়ামের বুকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। দ্রুত পালিয়ে ডেলফট ত্যাগের আগেই গিরার্ড ধৃত হয়।

 অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী প্রাণপ্রদীপ নিভে যাওয়ার মূহুর্তে উইলিয়ামের মুখে শেষ কথাটি ছিল, “হে প্রভু আমার আত্মাকে শান্তি দিন, আর অভাগা খুনিটির প্রতি সহানুভূতি দেখান।

মেক্সিকোর হিডালগো

মেক্সিকান জাতির পিতা মিগুয়্যেল হিডালগো।

 ১৮০৯ সালে হিডালগোর অসন্তোষ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবর্তে সশস্ত্র ও বিদ্রোহের রাজনীতি শুরু করেন।

 “দখলদার অপশক্তির নৃশংস থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে, তাড়াতে হবে সাম্রাজ্যবাদী শকুন, হয় স্বাধীনতা নয় মৃত্যু।” এই ছিল তাঁর যুদ্ধ নীতি। তিনি গড়েও তুলেছিলেন স্পেন শাসকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম।

 ১৭৫৩ সালের ৮ মে জন্মগ্রহণকারী হিডালগোকে ১৮১১ সালের ৩০ জুলাই হিডালগোকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

 হিডালগোর সহচর চার নেতা আলেন্দে, জোসে, ম্যারিআনো ও জুয়ান যুদ্ধের ময়দানে বিশ্বাসঘাতকতামূলক প্রক্রিয়ায় স্পেনিস বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। ১৮১১ সালের ২ জুন এবং ৩০ জুলাই জোসে ছাড়া সবাইকে মৃত্যু দন্ড দেয় এবং তা কার্যকর করে। হিডালগো সহ তিন নেতার মস্তক গুয়ানাজুয়াটোতে প্রকাশ্য স্থানে রেখে দেয়া হয়েছিল।

 জোসে মারিয়া বিদ্রোহী বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন।

 ১৮২১ ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পর হিডালগোর দেহ চিহুয়াহুর সান ফ্রাসিসকো টেম্পল সমাধি হতে উঠিয়ে কর্তিত মস্তক পুনরায় দেহের সঙ্গে সংযুক্ত করে মেক্সিকো সিটিতে সমাধিস্থ করা হয়।

 তাঁর সম্মানে হিডালগো অঙ্গ রাজ্য এবং জালিস্কোর গুয়াডালাজারার ডোলারস হিডালগো শহর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়। মেক্সিকোর ১০০ পিসোর নোটে তাঁর ছবি রয়েছে।

 “উরুগুয়ের জোসে অর্টিগাস

উরুগুইয়ান জাতির পিতা জোসে গার্ভাসিও অর্টিগাস। এটি একটি আশ্চর্যের বিষয় যে, জোসে তার জীবদ্দশায় কখনও উরুগুয়েকে পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি করেননি। শুধু অরিয়েন্টাল




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]