মহাসড়কেই ধান মাড়াই সম্পন্ন

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ১৭ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
মহাসড়কেই ধান মাড়াই সম্পন্ন

মনমথ মল্লিক,(বেতাগী বরগুনা) থেকে >> বরগুনার বেতাগীতে ইরি মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা । জমি থেকে ধান কেটে আনার পর চলছে মাড়াইয়ের কাজ। মাড়াই শেষে শুরু হয় ধানের খড় শুকানো। এরপর স্তুুপ করে রাখা হয় ওই সব শুকনো খড়। এর এসব কাজের সবই চলছে এখন ব্যস্ততম বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর।

 

এতে সড়কের বড় একটি অংশ বেদখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় হতাহতের ঘটনা। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মাহিন্দ্রা, অটো রিকশা, মোটরসাইকেল ও বাই-সাইকেল আরোহীরা। সড়ক যেন ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে।

 

গতকাল রবিবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খেত থেকে ধান কেটে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। পাশেই ওই সব ধান ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয মাড়াই করা হচ্ছে। মাড়াই শেষে ধান বাড়িতে নিয়ে গেলেও খড় সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে থাকে। সড়কের পাশে শুকানো হচ্ছে ওই সব খড়। আবার অনেকে খড় শুকানোর পর সড়কের পাশেই রেখেছেন। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে নানা যানবাহন।

 

এ ছাড়া উপজেলার বেতাগী-জলিশা, জলিশা-মোকামিয়া, খাঁনের হাট-মোল্লার হাট এবং কাউনিয়া-বদনীখালীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় সড়কেও বোরো ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর একই চিত্র দেখা যায়।

 

বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, গত শুক্রবার সকালে বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝোপখালী এলাকায় একটি মোটরসাইকেল আরোহী সড়কের পাশে পড়ে আহত হন। সড়কে ধানমাড়াই ও খড় শুকানোর কারণে মোটরসাইকেল আরোহী খড়রে কারণে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন।

 

বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসচালক মো. লিটন জানান, বেতাগী থেকে বরগুনা পৌঁছাতে কর্তৃপক্ষ তাঁদের একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়। ওই সময়রে মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে পরদিন ট্রিপ বাতিল করা হয়। কিন্তু মহাসড়কে ধানমাড়াই ও শুকানোর কাজ করায় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চলানো যায় না।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ভেজা খড়ের ওপর দিয়ে বাস চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালি গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর মেশিন বসিয়ে চলছিল ধান মাড়াই। এ সময় কথা হয় ধান মাড়াই কাজে ব্যস্ত নুর আলমের সঙ্গে।

 

তিনি বলেন, আগে তো গৃহস্থের ধান মাড়াইয়ের জন্য অনেক খোলা জায়গা ছিল। এখন তা নেই। গ্রামের প্রায় সবাই রাস্তার ওপরে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে।

 

মোটরসাইকেল চালক রবি চান হাওলাদার (৪৮) বলেন, সড়কগুলোতে ধান মাড়াই ও শুকানোর সময় চলা কঠিন হয়ে যায়। এসব শুকানোয় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে থাকায় একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
মাদিন্দ্রা চালক সিরাজুল ইসলাম (৩৩) বলেন, যারা সড়কে ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে, তারা যানবাহন দেখেও না দেখার ভান করে।

 

সদর ইউনিয়ন এলাকায় মহাসড়কের ওপর ধানমাড়াই করছিলেন কৃষক কামাল হোসেন। তিনি জানান, বাড়ির উঠান ছোট হওয়ায় জমির ধান মাড়াই করতে অসুবিধা হয়। তাই খোলামেলা এ সড়কটি ব্যবহার করছেন। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কী করমু, বাড়িতে জায়গা না থাকায় রাস্তাতে ধান মাড়াই করতেছি।’

 

হোসনাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন কেউ আগের মতো বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা রাখে না। নিরুপায় হয়ে পিচঢালাই সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, সড়কের উপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কেউ যাতে যানচলাচলে বাঁধা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]