বরিশালে ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ১৮ বুধবার, ২০২১, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ।। ছেলের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবা।

 

আজ বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবা ও বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ার নয়ানী গ্রামের বাসিন্দা মো. আনসার আলী এ কামনা করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে মো. আনসার আলী জানান, মেজো ছেলে আবুল কাশেম নান্নু কয়েকবারে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার গাছ ও বাঁশ বিক্রি করে। আর এ কাজে তিনি যতবার বাধা দিয়েছেন ততবারই মারধর করেছে। এ নিয়ে ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি নিজেদের বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। তবে ওই সালিশের রায় মেজো ছেলে নান্নু মেনে নেয়নি।

 

আনসার আলী বলেন, এরপর ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টাকা চেয়ে না পেয়ে নান্নু আমাকে বেদম মারধর করে এবং জোরপূর্বক একটি বাছুরসহ গরু নিয়ে যায়। তখন আমি বাদী হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করি। জামিনে ছাড়া পেয়ে আমাকে আদালত চত্বরেই হুমকি দেয় সে। তখন আমি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।

 

তিনি বলেন, আমার দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ায় দেলোয়ার মুন্সী নামে একজনকে মারধর করে সে। পরে ২০১৭ সালের ১ জুন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও একটি মামলা দায়ের করি।

 

আনসার আলী বলেন, জাল দলিল দিয়ে নান্নু আমার কিছু জমি জোরপূর্বক চাষাবাদ করছে এবং জমিও দখল করতে চায়। চাষাবাদে বাধা দিলে আমার বসতঘর থেকে নামিয়ে দেয়। তখন থেকে আমার বড় ছেলে আলাউদ্দিন বাবুলের ঘরে থাকি। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাল দলিলের জোরে নান্নু লোকজন নিয়ে আমার ২৮৪ শতাংশ জমির ধান ও ১টি রেইন্ট্রি গাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়।

 

বৃদ্ধ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গত ৫ বছর ধরে আমার সঙ্গে ঝামেলা করে আসছে আবুল কাশেম নান্নু। আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আমার জমির জাল দলিল তৈরি করে আমার জমি আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করে আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী দুলুফা বেগম ২০১৫ সালে মারা যাওয়ার পর আবুল কাশেম নান্নু দাবি করে যে, তার মা তাকে দলিলমূলে প্রায় ৫ একর জমি দিয়ে গেছে। কিন্তু আমি আমার স্ত্রীকে কোনো দলিল দেইনি। আর নান্নু যে জাল দলিল তৈরি করেছে তার বড় প্রমাণ হলো আমি দুলুফা বেগমকে ১৯৬৭ সালের ১৪ মার্চ বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের ৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬১ সালের ২০ এপ্রিল সেই স্ত্রীকে কীভাবে জমি দিলাম।

 

বৃদ্ধ বলেন, এছাড়া আরও প্রায় দেড় একরের মতো জমি তার মা কুলছুম বিবি দলিল মূলে দিয়েছে বলে নান্নু দাবি করছে। কিন্তু তার কাগজও আজ অবধি দেখাতে পারেনি। নান্নু জোরপূর্বক কিছু জমি চাষাবাদ করছে এবং আরও অন্য জমি দখল করতে চাচ্ছে।

আমি যে কোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারি। আমি অনেক ঋণগ্রস্থ ছিলাম। যে অর্থ আমার বড়ছেলে আলাউদ্দিন বাবুল পরিশোধ করার পাশাপাশি জরিপ কাজের খরচসহ বহু ব্যয় বহন করেছে। সেজন্য আমি তাকে আড়াই একর জমি দিয়েছি। আবার মেজো ছেলে নান্নু লাখ লাখ টাকা দেনা হলে ১১৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে তা মিটিয়েছে এবং বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমা থেকেও মুক্ত করেছি।

 

আনসার আলী আরও বলেন, সবশেষ চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি আমার ৩ একর জমির ধান কেটে নিয়ে যায় নান্নু ও তার লোকজন। ওই সময় বাধা দিলে নান্নু ও তার ছেলে এমরান ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আমাকে আহত করে।

 

স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই ঘটনায় আমার বড়ছেলে বাবুল বাদী হয়ে নান্নুসহ ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় নান্নু আমার জমির মুগডাল লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক তুলে নেয়। বাধা দিলে আমাকে গালাগাল ও মারার ষড়যন্ত্র করছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]