‌‌‘যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার দায়ী’

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ২২ রবিবার, ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ণ
‌‌‘যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার দায়ী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে হাজার হাজার আফগান এবং বিদেশিদের সরিয়ে নেওয়ার সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছে তালেবান। তড়িৎগতিতে অভিযানের মাধ্যমে কট্টর ইসলামপন্থী এই গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের পর কাবুল বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং তালেবানের ঝুঁকির কারণে চলতি মাসের মধ্যে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব বলে স্বীকার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যদিও এই গোষ্ঠী তাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের ক্ষমতার সময়ের নৃশংস শাসনের তুলনায় এবারে নমনীয়তার অঙ্গীকার করেছে।

 

কিন্তু তালেবানের ভয়ে আতঙ্কিত আফগানদের পালানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্মান্তিক ঘটনা আরও গভীর করে তুলেছে; যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা বিপুলসংখ্যক মানুষের মরিয়া হয়ে ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তালেবানের কর্মকর্তা আমির খান মুতাকি বলেছেন, সর্বশক্তি এবং সুবিধা নিয়েও কাবুল বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। দেশজুড়ে শান্তি এবং শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু শুধুমাত্র কাবুল বিমানবন্দরেই বিশৃঙ্খলা।

 

রোববার ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কাবুল বিমানবন্দরে হুড়োহুড়িতে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি তিনি।

 

দেশ ছাড়তে মরিয়া একদল গণমাধ্যম কর্মী এবং শিক্ষাবিদের সঙ্গে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম একজন সাংবাদিক বলেছেন, বিমানবন্দরে আসার পথে তাদের বাস অনেক মানুষ ঘিরে ধরেছিলেন।

 

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, তারা আমাদেরকে নিজেদের পাসপোর্ট দেখিয়ে সঙ্গে নেওয়ার জন্য চিৎকার করছিলেন। তারা বলছিলেন, আমাদের সঙ্গে নিন। দয়া করে আমাদেরকে আপনাদের সঙ্গে নিন। ওই সাংবাদিক বলেন, তালেবানের যোদ্ধারা আমাদের সামনে ট্রাক থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

 

এদিকে, ব্রিটেনের স্কাই নিউজ শনিবার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে সাদা ত্রিপলে তিনজনের মরদেহ ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে তারা কীভাবে মারা গেছেন সেটি পরিষ্কার নয়।

 

বর্তমানে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এবং আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তারা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। বাইডেন প্রশাসনের মতে, এখনও আরও ১৫ হাজার আমেরিকান এবং ৫০ থেকে ৬০ হাজার আফগানকে সরিয়ে নেওয়া দরকার।

 

তালেবানের নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয়ে আরও হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার মরিয়া চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার এই অভিযানকে অন্যতম বৃহৎ এবং ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বিমান পরিবহন বলে মন্তব্য করেছেন।

নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের কাবুল বিমানবন্দর থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা জারি করায় সেখানকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কি কারণে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে সেবিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাইডেনকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকির ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে।

 

গত ১৪ আগস্ট অভিযান শুরুর পর শনিবার পর্যন্ত কাবুল থেকে আড়াই হাজার আমেরিকানসহ অন্তত ১৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। আরও হাজার হাজার মানুষ অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীর ফ্লাইটে করে দেশ ছেড়েছেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]