বরিশালের আওয়ামী লীগকে প্রশাসনের বিপরীতে দাঁড় করানোর ময়নাতদন্ত

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ২২ রবিবার, ২০২১, ০৭:২২ অপরাহ্ণ
বরিশালের আওয়ামী লীগকে প্রশাসনের বিপরীতে দাঁড় করানোর ময়নাতদন্ত

“দাদা দেখেন মামলার জন্য করোনায় অসুস্থ মা’য়ের কাছে এখন থাকতে পারতেছি না, সেবা যত্নও করতে পারছি না, এমনকি প্রয়োজনীয় ঔষধও কিনেও দিতে পারছি না। কি অমানবিক, চিৎকার করে কান্নাও করতে পারছি না।’’  ইউএনও তো আমার নাম, বাবার নাম, গ্রামের নাম কিছুই জানেন না। গত ২৩ জুলাই থেকে গৌরনদী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত মা’য়ের সাথে হাসপাতালে থাকছি। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ি চলছে চিকিৎসা, সাধ্যমতো চেষ্ট করছি মা’য়ের সেবা যত্ন করার। করোনা ওয়ার্ডে থাকার কারনে বাইরেও বের হওয়া যায় না। অথচ ঘটনাস্থলে তো দূরের কথা ঘটনার কথা না জানলেও ইউএনও মো. মুনিবুর রহমানের মামলার আসামী হয়েছি। এখন মামলার কারণে গ্রেফতার এড়াতে অসুস্থ মায়ের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

এভাবেই হৃদয় বিদারক কথাগুলো বলছিলেন করোনায় আক্রান্ত এক মায়ের সাথে প্রায় এক মাস যাবত হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসা করানো সন্তান ও বরিশাল সদর উপজেলা ইউএনও মুনিবুর রহমানের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৯নং আসামী আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগ নেতা ফয়জুল সেরনিয়াবাত। ফয়জুলের মতো ওই মামলায় ৮নং আসামী হওয়া বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ সদস্য মনির সিকদার, আগৈলঝাড়া কলেজ ছাত্রলীগ সদস্য ৭নং আসামী সজীব সরদার, আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগ সদস্য ১০নং আসামী মানিক সেরনিয়াবাতসহ আরও অনেকের প্রশ্ন? ঘটনার দিন বরিশালেই উপস্থিত ছিলেন না জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। তার মতো অনেকেই ঘটনাস্থল বা বরিশালে না থেকেই একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট (ইউএনও) এর মামলায় কিভাবে তারা আসামী হলেন ? মামলায় আসামী করা হয়েছে এক বছর আগে মারা যাওয়া ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনকেও !

পুলিশের দায়ের করা মামলার ৮নম্বর আসামী বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, গত ১৬ আগস্ট তিনি তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে তার চিকিৎসায় করান। বুধবার রাতে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি ১৮আগস্টে বরিশালে ঘটে যাওয়া ঘটনা। ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে তিনটার ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বরিশালে আসেন জানিয়ে যার বোর্ডিং পাসের কাগজও তার কাছে রয়েছে বলে জানান। বরিশালে এসে দুইটি মামলার কথা জেনে তার একটিতে ৮ নম্বর আসামি হয়েছেন বলে জানতে পারেন তিনি। তিনি ষড়যন্ত্র মুলক মামলায় ফাঁসানোর ঘটনার বিচার দাবি করেন।

ঘটনার দিন ও সময়ে মামলায় এজাহারভুক্ত অনেক আসামী বরিশাল শহরেই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি এক বছর আগে সাদ্দাম হোসেন নামে মৃত দলীয় নেতাকেও এজাহার নামীয় আসামী করে তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

ইউএনও এবং পুলিশের পৃথক মামলা:

ব্যানার অপসারণ করাকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র বাস ভবনে হামলা ও সংঘর্ষের অভিযোগে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামরা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সিটি মেয়রকে। এছাড়া ওই মামলায় আরও ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭০/৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের কাজে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে ১৯ আগস্ট একটি মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়েছে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাতসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৯৪ জন নেতাকর্মীকে। ৩ থেকে ৪শ জনকে করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আসামি। দু’টি মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬০২জন নেতা কর্মীকে আসামী করা হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামী করে ৩৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০জনের বিরুদ্ধে ইউএনও মুনিবুর রহমানের দায়ের করা মামলাকে গায়েবী আখ্যায়িত করে মামলার পর থেকে সময় যত বাড়ছে তৃতীয় ব্যক্তির ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রর ঘটনা প্রকট হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে- বরিশালের সদর উপজেলা চত্তর থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের দূরত্ব অন্তত ৫০ কিলোমিটার। সেই ৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা আগৈলঝাড়ার সেরনিয়াবাত পরিবার সদস্যদের উদ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে তৃতীয় ব্যক্তির সহায়তায় এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন ইউএনও। যা মামলার এজাহারের সিরিয়াল দেখলেই বোঝা যায়। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন- ইউএনও’ এবং পুলিশের দায়ের করা মামলায় যদি সকল আসামীদের তাদের সামনে দাড় করানো হয় তাহলেও কি ইউএনও বা পুলিশের বাদী সকল আসামীদের নাম, বাবার নাম, দলের পদবী ও সঠিক ঠিকানা বলতে পারবেন? আবার একই ব্যক্তিকে দুটি মামলায় আসামীও করা হয়েছে।

এদিকে ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অ্যাডমিস্ট্র্রিটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার এর সভাপতিত্বে কার্য নির্বাহী পরিষদের জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবার কতঅ জানা গেছে। ওই দিন রাতে তাঁর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জরুরী সভার অনুষ্ঠিত হবার কথা জানা গেলেও ওই বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বা কারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তা স্পস্ট করেন নি তিনি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার তার স্বাক্ষরে উল্লেখ করেন- বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তাঁর দুর্বিত্ত বাহিনী সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ সমস্ত জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। অবিলম্বে মেয়রের গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছে তিনি।

সচিবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বরিশালসহ গোটা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সুশীল সমাজে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, ঘটনার পরদিনই একজন সচিব পদ মর্যাদার ব্যক্তি কি করে একজন নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অশ্লীল শব্দ ও বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর গ্রেফতার দাবি করলেন ? তিনি কোন উদ্যেশ্য নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিপক্ষে প্রশাসনকে দাড় করিয়ে দিলেন? ইউএনওর ব্যক্তিগত আচরণ ও কর্মকান্ডের দায় কেন অ্যাডমিস্ট্র্রিটিভ সার্ভিস বা রাষ্ট্র বহন করবে? সচিব যা জেনেছেন সেটাই যদি সত্য হয় তাহলে পুলিশের বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি হাস্যকর মনে হয় না? জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-সত্যিই কি ১৯ আগষ্ট সচিব কবির বিন আনোয়ার কর্মকর্তাদের নিয়ে এমন কোন সভা করেছিলেন, না কি উর্ধতন কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তাদের লেখা কাগজে স্বাক্ষর করেছেন মাত্র।

তিনি যদি সভা করে নিজেও লিখে থাকেন তার পরেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, তিনি কি সরকারী সার্ভিস রুলের কথা ভুলে গেছেন? কিভাবে একজন নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অশ্লীল ও ভুলে ভরা শব্দ ও ভাষার ব্যবহার করেন তিনি। তার শব্দ ও বাক্য প্রয়োগ বরিশালের সেরনিয়াবাত পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও কূট-কৌশলের অপপ্রলাপের অংশ নয় তো? পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব সভা ডেকে ইউএনও’র বাসায় হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানালেও তার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক আওয়ামী লীগ বা প্রশাসনের পক্ষে বিপক্ষে এখননও মুখ বন্ধ রেখেছেন কেন? তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই তো এমপি হয়েছেন, পরে তো সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

একাধিক আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- বরিশালে ১৮ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঘটনা ও দায়ের করা দু’টি মামলা নিয়ে দেখা দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ওই দু’টি মামলাকে সামনে রেখে জন্ম নিয়েছে প্রশাসন ও সেরনিয়াবাত পরিবারসহ আওয়ামী লীগকে এক অপরের বিপরীতে দাড় করানো নিয়ে অনেক প্রশ্নের।

বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন- ঘটনা যতটুকু ঘটেছে ইউএনও এবং পুলিশ তার চেয়ে অনেক বেশী আকারে তা প্রকাশ করে ফেলায় তাদের নিজেদের অতিরঞ্জিত কর্মকান্ড আড়াল করতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা বলয় ঠিক রাখতে ঘটনার নাটকীয় মোড় দিয়ে মুল ঘটনাকে আড়াল করে সকলের চোখ অন্য দিকে ঘুরাতে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টি মামলাও রহস্যজনক বলে অভিমত দিয়েছেন তারা। সেদিন যাই ঘটুক তার জন্য ইউএনও’র দায়ের করা মামলার সঠিক তদন্ত করলেই মূল রহস্য বের হতো। ইউএনও’র এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা যেত। অতি উৎসাহী হয়ে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হবার কারণেই দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন তারা।

আমলা তান্ত্রিক সমস্যা না কি ইউএনও ব্যাক্তিগত অশোভন আচরণের কারণে সেদিন বরিশালের ঘটনা ঘটেছে এটাই এখন সবার কাছে প্রশ্ন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বনাম সদর উপজেলা পরিষদের কোন উন্নয়ন প্রকল্প বা ব্যক্তিগত ভাগাভাগি নিয়ে সেদিন রাতে কোন ঘটনা ঘটেনি। একজন ইউএনও ওই এলাকার স্থানীয় এমপির কমান্ডে চলেন, আর এটাই সরকারী প্রটোকল। ইউএনও মুনিবুর রহমান নিশ্চই সেই রাস্ট্রীয় প্রটোকলের বাইরে নয়। তাই সঙ্গত কারণে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপি কর্নেল জাহিদ ফারুকের নির্দেশনাই ইউএনওকে বাস্তবায়ন করতে হয়। আর প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই কি প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাড় করিয়েছেন তিনি?

প্রশ্ন এসেছে সেদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে থানায় দায়ের করা দু’টি এজাহারের কতটুক মিল আছে? এজাহারে কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কি অভিযোগ আনা হয়েছে? বাস্তবে মেয়রের ভূমিকা সেখানে কি ছিল, আর মামলায় মেয়রকে কোন দোষে দোষী সাবাস্ত করা হয়েছে ? এছাড়াও বিশ্লেষণ করা দরকার- সেখানে তিন ঘন্টার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে সেখানে ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার আসামী করা যেত কিনা? বরং তিন ঘন্টার ভিডিও ফুটেজ থাকলেও মাত্র ১৩ সেকেন্ডের ফুটেজ ইউএনও প্রকাশ্যে আনার কারন ও উদ্যেশ্য কি? ইউএনও’র বাসায় হামলার ভিডিও ফুটেজের সাথে এজাহারের কোন মিল আছে কি? কারো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে কি ইউএনও মামলার বাদী হয়েছেন? ইউএনও মুনিবুর রহমান কারো দ্বারা প্রভাবিত বা প্ররোচিত না হয়ে থাকলে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকা সত্বেও সেই সকল লোকের নাম এজাহারে আসার কোন কারন থাকতে পারে না। কে বাদীকে আসামীদের নাম, ঠিকানা সংগহ করেছে ? এসকল প্রশ্নে জবাবে অভিজ্ঞরা জানিয়েছেন- রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইউএনওর বাসার ফুটেজ এবং তার ফোন কল রেকর্ড, বিভিন্ন এ্যাপস চেক করলেই বের হয়ে আসবে ষড়যন্ত্রের আসল রহস্য।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেই বের হবে ঘটনার আসল রহস্য ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশি-লবদের চরিত্র। ঘটনার রহস্য উদঘাটানের পাশাপাশি মেয়রকে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেনশীল আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। পাশপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ইউএনও এবং পুলিশের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার কথাও জানিয়েছেন তারা। মামলা দাযেরের পরে কোন রকম তদন্ত ছাড়াই গণগ্রেফতারে নামা কতটুকু যুক্তিসংগত? যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা সকলেই কি তদন্তে দোষী সাব্যস্থ হবেন? গ্রেফতারকৃতরা সবাই কি ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না তদন্ত সাপেক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত তরিঘরির কোনও দরকার ছিল বলেও মনে করছেন না অভিজ্ঞরা।

ঘটনার দিন ইউএনও’র পরিষদ চত্তরে ব্যানার অপসারনের ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের লোক পরিচয় দেয়ার পরেও যদি তাদের ব্যাপারে ইউএনওর কোন প্রশ্ন জেগে থাকে তাহলে বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশকে অবহিত করলেই সমাধান হতে পারতো। তিনি কি পুলিশকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন, না কি তার নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আসনার সদস্যদের দারাই গুলি করার মাধ্যমে পুর্ব নির্ধারিত ছক অনুযায়ি প্রবেশ করা লোকজনকে দুর্বিত্ত আখ্যায়িত করে তাদের প্রতিহতর চেস্টা করেন? দ্বিতীয় দফায় মেয়র উপস্থিত হলে তার পরিচয় প্রদানের পরেও তার উপস্থিতিতে গুলি করা কোন ধরনের আত্মরক্ষা? আর আত্মরক্ষার্থে গুলি করলেও তা লাগার কথা কোমড়ের নীচের অংশে, কারো মুখমন্ডলে লেগে চোখ নষ্ট হবার কথা নয়।

এজাহার অনুযায়ি পুলিশ এবং ইউএনওকে হত্যার উদ্যেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গুলি করে থাকলে ঘটনাস্থল থেকে কতটা খালি গুলির খোসা এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে? মেয়র কি কাউকে মারধর, ভাংচুর বা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন তাহলে কেন তাকে আসামী করা হলো-এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে আর তা হচ্ছে- কলাপাড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির পরে যে ইউএনও’র বিরদ্ধে মিছিল পর্যন্ত হয়েছে তার অপকর্ম ঢেকে কার শুপারিশে তিনি বরিশালের মতো একটি বিভাগীয় শহরের সদর উপজেলা ইউএনও হিসেবে চেয়ারে পেয়েছেন ? ইউএনও নাকি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে এমন প্রমাণ এখন সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। তিনি আওয়ামী অনুসারী হলে জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের উপস্থিতিতে তো তার গুলি করার নির্দেশ দেয়ার কথা নয়, সেরনিয়াবাত পরিবার সম্পর্কেও তার ইতিহাস জানার কথা। তাহলে কি সেরনিয়াবাত পরিবারের ইতিহাস জেনে, আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হবার পরেও ১৫ আগষ্ট মোস্তাকের ভুমিকার ফের অবতারণা করলেন ২০২১ সালের ১৮ আগষ্ট?




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]