বরিশালের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ২২ রবিবার, ২০২১, ১১:০০ অপরাহ্ণ
বরিশালের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার ঘটনার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।

গত ১৯ আগস্ট রাতে কবির বিন আনোয়ার স্বাক্ষরিত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর তা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই কারও ফোন ধরছিলেন না কবির বিন আনোয়ার।

রোববার সন্ধ্যার পর তাকে ফোনে পাওয়া যায়। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নানা আলোচনা ও বরিশালের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না।’

এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।

গত ১৮ আগস্ট রাতে বরিশালের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে শোক দিবসের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইউএনওর সরকারি বাসভবনেও হামলার অভিযোগ করা হয়।

ইউএনও মুনিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ব্যানার ও পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসেন। রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তাদের সকালে আসতে বলা হয়। এ কারণে তারা গালিগালাজ করে। আমার বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়।’

পরদিন বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। ইউএনওর মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে হুকুমের আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় ৩০-৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকশ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে পৃথক অপর একটি মামলা করেন। দুটি মামলায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।

১৯ আগস্ট রাতে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিে বলা হয়, আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করা হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

 

বরিশালের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, সরকারি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একজন নির্বাহী অফিসার কীভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দ্বারা হেনস্থা হয়েছেন। তার বাসায় হামলা করা হয় যেখানে তার করোনা আক্রান্ত অসুস্থ বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই উক্ত কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করা হয়েছে, তার বাড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তার চামড়া তুলে নেয়ার জন্য প্রকাশ্যে শ্লোগান দিয়ে মিছিল করা হয়েছে।

‘মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তার দুর্বৃত্ত বাহিনী সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং সমস্ত জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে’ বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এমন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানায় এবং বরিশালের মেয়র যার অত্যাচারে সমগ্র বরিশালবাসী অত্যন্ত অতিষ্ঠ, সেই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর হুকুমেই এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন। অতএব, অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে তার গ্রেফতার দাবি করছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।’

এই বিজ্ঞপ্তিতে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অনেকেই এটাকে বাড়াবাড়ি বলেছেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]