ঝালকাঠির হাসপাতালে স্যালাইন-ওষুধ সঙ্কট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯ সোমবার, ২০২১, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির হাসপাতালে স্যালাইন-ওষুধ সঙ্কট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তীব্র গরমে ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার চার উপজেলায় দুশতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইভি (শিরায় দেয়ার) স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্কট থাকায় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল এবং নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ২ হাজারেরও বেশি লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আইভি স্যালাইন ও ডায়রিয়ার জন্য দরকারি অন্যান্য ওষুধপত্রের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এমনকি শিশুদের স্যালাইন দেয়ার ক্যানোলাও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

 

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি সদর উপজেলার রূপসীয়া গ্রামের হেমায়েত আলী হাওলাদারের মেয়ে মনি আক্তার (২৫) বলেন, ‘সকাল থেকে এ পর্যন্ত বাইরে থেকে তিনটি স্যালাইন কিনে আনতে হয়েছে। ডায়রিয়ার স্যালাইন যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার কী।

 

নলছিটির সারদল গ্রামের মো. মনির হোসেন জানান, তার মেয়ে মুনিরা আক্তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ভর্তির পর থেকে মাত্র একটি আইভি স্যালাইন সরবরাহ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, আর স্যালাইন সরবরাহ করা যাবে না।

 

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের নার্স পুরবী হালদার বলেন, ‘আমাদের এখানে আইভি ও খাবার স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। রোগীকে একটির বেশি স্যালাইন দিতে পারছি না।

 

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু জাফর দেওয়ান বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। আইভি স্যালাইন সঙ্কটের কারণে রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। অনেকে অবশ্য বাইরে থেকে কিনে আনছেন। তবে হাসপাতাল থেকে আরও বেশি আইভি স্যালাইন সরবরাহ করা দরকার।

 

 

এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘তাপদাহের এই সময়ে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। আইভি স্যালাইন সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি অতি দ্রুতই স্যালাইন চলে আসবে।

 

নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেশ কিছু স্যালাইন দিয়েছেন, তা দিয়ে অন্তত নলছিটির চাহিদা মেটানো কিছুটা হলেও সম্ভব হবে বলেও জানান সিভিল সার্জন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]