গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ির বাসা বাড়িতে চুরির মহোৎসব

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ২৮ শনিবার, ২০২১, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ির বাসা বাড়িতে চুরির মহোৎসব

মোঃ শান্ত (নারায়ণগঞ্জ সদর) : কয়েক বছর আগে গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি গলিকে কেন্দ্র করে মাদক বিরোধী গলি উন্নয়ন কমিটি করা হলে গলিটির নাম দেয়া হয় চেয়ারম্যান বাড়ি মাদ্রাসা রোড। গলির সকল বাড়িওয়ালাদের নিয়ে গলির উন্নয়নের স্বার্থই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গঠন করার কিছু দিনের মধ্যেই গলিতে ৩ টি গেট স্থাপন করা হয় ও ২ জন দারোয়ান এবং সম্পুর্ণ গলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। গলি উন্নয়ন কমিটি যখন গঠন করা হয় তখন প্রশাসন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সম্পৃক্ত ছিলেন।

গলিতে বসবাসকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দারোয়ান নিয়োগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এক এক করে দুজকেই চাকরি থেকে না করা হয়। এখন এলাকার বাড়িওয়ালদের প্রশ্ন গলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলেও মনিটর কোথায়? এবং দারোয়ানদের না করে দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই আবার গলিতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা গুলোও চুরি হয়ে যায়। চুরি হয়ে যাওয়া স্থানে পুনরায় ক্যামেরা লাগানোর কথা বলে এক বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন কমিটির প্রধান এম এ সাত্তার পট্টু টাকা নিয়েও ঐ স্থানে লাগাননি ক্যামেরাটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলিতে গত ৬ মাসের মধ্যে একাধিক বাড়িতে দিনে দুপুরে ৬-৭ বার চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময় ফতুল্লা থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও প্রশাসন যেন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গলি দিয়ে প্রবেশ করার আগেই বেশ বড় করে দেয়ালে লিখা অপরিচিত মানুষ প্রবেশ নিষেধ। গেট থাকলেও নেই দারোয়ান। গলির শেষ মাথায় ব্যক্তিগত কয়েকটি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও সম্পূর্ণ গলির ভিতরে দেখা যায় ক্যামেরার ক্যাবল থাকলেও নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বাড়িওয়ালা জানান, মাদক ও গলি উন্নয়ন কমিটি করা হয়েছিল এই গলিতে যেন কোন মাদকের আখড়া না বসে এবং গলির যেন উন্নয়ন হয়। কমিটি গঠন করার পর কয়েক মাস সবকিছু সঠিকভাবে চলছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরেই যখন দারোয়ান ছাঁটাই ও ক্যামেরা চুরি হয় তারপর থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বেড়ে যায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা।

উল্লেখ্য, ২৫ আগষ্ট বুধবার দুপুরে সাংবাদিক সুলতান এর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে তিনি জানান, গলি কমিটির উদাসীনতার কারনে ও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় প্রতিনিয়ত গলিটিতে এই রকম চুরির ঘটনা ঘটছে। আমি ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

কমিটি প্রধান এম এ সাত্তার পট্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগানো হলেও যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করে তারাই এই গুলো নষ্ট করেছে। এবং কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি তার ব্যর্থতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও বলেন আমার বিরুদ্ধে যারা বাজে কথা বলে তারা পাঞ্জাবি না ফতুয়া। গলি উন্নয়ন কমিটি গঠন করার সময় প্রসাশনের সম্পৃক্ততা ছিলো কিনা? বলাতে তিনি তা এড়িয়ে যান।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, চুরি হওয়ার একাধিক অভিযোগ থাকার পরেও তিনি বলেন আমি কিছু জানি না।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]