চুরির অপবাদে ট্রাকে বেঁধে রাস্তায় টানায় যুবকের মৃত্যু

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ২৯ রবিবার, ২০২১, ০৪:১৭ অপরাহ্ণ
চুরির অপবাদে ট্রাকে বেঁধে রাস্তায় টানায় যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চুরির অভিযোগে এক যুবককে প্রথমে বেধড়ক মারধর, পরে ট্রাকের সঙ্গে পায়ে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো পিচঢালা রাস্তায়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানেই মারা যান তিনি। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশের নিমচা জেলার কালান গ্রামে গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত ও নিহত ওই ব্যক্তির নাম কানহাইয়া লাল। তিনি মধ্যপ্রদেশের উপজাতি ভিল সম্প্রদায়ের মানুষ। অন্যদিকে অভিযুক্তরা একই প্রদেশের রাজপুত শ্রেণির গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ। যদিও এই ঘটনার পেছনে জাতিবিদ্বেষই মূল কারণ কি না সে বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মর্মান্তিক এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজটি প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা কমল নাথ। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘উপজাতি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে এটি কী ধরনের বর্বরতা? চোর সন্দেহে মানুষটির ওপর এমন অত্যাচার করা হলো যে, তিনি মারা গেলেন?’

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন কানহাইয়া লালের বাইকের সঙ্গে স্থানীয় গুর্জর সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির গাড়ির সংঘর্ষ হয়। আর এটি থেকেই মূলত ঘটনার সূত্রপাত। তবে বাইক দুর্ঘটনার পর কেন কানহাইয়া লালকে চুরির অপবাদ দেওয়া হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নির্যাতিত ওই মানুষটির ওপর অত্যাচার এবং তার শেষ মুহূর্তের যন্ত্রণা ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নির্যাতনের পর রাস্তায় বসে থাকা কানহাইয়া লালের পায়ে দড়ি বেঁধে সেই দড়ি একটি ট্রাকের পেছনে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ধুলো মাখা জরাজীর্ণ চেহারা ও ছেঁড়া ফাটা পোশাকের মধ্য দিয়ে স্পষ্টতই তার ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে।

 

ভিডিওতে কানহাইয়া লালকে হাতজোড় করে অনুনয় করতেও দেখা যায়। তবে তার সেই অনুনয়ের দিকে দৃষ্টিপাত না করেই চালিয়ে দেওয়া হয় ট্রাক। পিচের রাস্তায় টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় অত্যাচার ও নির্যাতনে কাবু হয়ে পড়া কানহাইয়া লালকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির খবর পেয়েই ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে পার্শ্ববর্তী নিমচার সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা কানহাইয়া লালকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় মোট আট জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও খোঁজা হচ্ছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]