পিয়াসার রিমান্ড তথ্যের অডিও বাইরে কীভাবে?

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ৩০ সোমবার, ২০২১, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
পিয়াসার রিমান্ড তথ্যের অডিও বাইরে কীভাবে?

বিনোদন ডেস্কঃ এক রহস্যময় নারী কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। বনানী রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণকাণ্ড ও গুলশানে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের প্রেমিকা কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কিত হন তিনি। মডেলিংয়ের নাম ভাঙিয়ে চলা পিয়াসা মাদক ও ডিজে পার্টির আসর বসিয়ে ধনাঢ্য বক্তিদের ব্ল্যাকমেইল ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন। এরপর রিমান্ডে থাকাকালীন তার ব্যক্তিগত ও অভিজাত পাড়ার অন্দর মহলের কাহিনী সম্পর্কে এই নারীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াসার দেয়া তথ্যের অডিও কিছুদিন ধরে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেখানে কয়েক শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দাবি করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ রিমান্ডে দেয়া স্বীকারোক্তির অডিও কীভাবে বাইরে এসেছে? আর এটি সঠিক না হলে যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

নারী পাচার ও অস্ত্র কারবারসহ অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়া রাতের রঙিন আসরের রানীখ্যাত ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেই ডিবি ও সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ভাইরাল প্রতিদিন’ নামক একটি ফেসবুক পেজ ও কিছু ইউটিউভ চ্যানেল থেকে পিয়াসার রিমান্ডে দেয়া স্বীকারোক্তি নামে যে অডিও ক্লিভগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এগুলোর মাধ্যমে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে একটি ইউটিউভ চ্যানেল পরিচালনাকারী একজন সাংবাদিকের দাবি, পিয়াসা ভিডিও ও অডিওগুলো সঠিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র থেকেই তারা পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পিয়াসার রিমান্ডের কথিত একটি অডিওতে পিয়াসাকে বলতে শোনা যায়, একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের ছেলের সঙ্গে অনেক নারীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যার মাধ্যমে বিএনপিদলীয় একজন নারী সংসদ সদস্য এবং একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর স্ত্রী ম্যাকরুনা আলমের নাম বলতে শোনা যায়। ফেসবুকের ছড়ানো ওই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে ম্যাকরুনা লিখেছেন, পিয়াসা নিজে একজন ‘পতিতা’। সে একজন বড় শিল্পপতির ‘রক্ষিতা’। নিজেকে রক্ষা করতে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এর আগে গত সপ্তাহে আদালতপাড়ায় পুলিশ হেফাজতে পিয়াসা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গুলশানের ভাসাবি ফ্যাসনের মালিক জামানের স্ত্রী তানজিয়া একজন ‘পতিতা’। তার ষড়যন্ত্রের কারণে আমরা ফেঁসে গেছি।

এর জবাবে তানজিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পিয়াসা যে কত বড় খারাপ মেয়ে সেটা সবাই জানে। তার আয়ের সঙ্গে জীবন যাত্রার সামঞ্জস্য নেই। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্পগোষ্ঠীর এমডির ‘রক্ষিতা’ হলো এই পিয়াসা। এটা গুলশান, বারিধারা, বনানীর উচ্চবিত্ত সমাজের অনেকে জানেন।

এরপর থেকে প্রশ্ন উঠছে, একাধিক বিয়ের পর কার রক্ষিতা হয়ে ছিলেন বিতর্কিত নারী ও কথিত মডেল পিয়াসা? কীভাবে ও কার আশীর্বাদে এই তরুণী বারিধারার মতো এলাকায় চার হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে একা বসবাস করতেন। যদিও নানা অবৈধ কারবারে পিয়াসার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অসমর্থিত সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোড এলাকার বাসিন্দা একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের ছেলে, যিনি সাম্প্রতিক এক আলোচিত মামলার আসামি, তার সঙ্গে পিয়াসার গভীর সখ্য রয়েছে।

ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পিয়াসা মাহবুবকে গত ১ আগস্ট রাতে বারিধারা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার ঘর থেকে চার প্যাকেট ইয়াবা ও ৯ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। ফ্রিজে পাওয়া যায় সিসা তৈরির কাঁচামাল। একই রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক করা হয় মৌ আক্তারকে। তার বাসা থেকে মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

এই দুজনকে গ্রেফতারের পর ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি,উত্তর) মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, পিয়াসা ও মৌ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওরা রাতের রানী বলেই সুপরিচিত। সারা দিন ঘুমিয়ে কাটাতেন। রাতে বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে বাসায় ডেকে আনতেন। এরপর গোপনে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলতেন। সেই ছবি বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন এই দুই কথিত নারী মডেল। এসব অবৈধ অর্থে বিলাসী জীবন কাটাতেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে পিয়াসার আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন রয়েছে। নারী পাচার ও অস্ত্র-গাড়ি চোরাচালান কারবারেও জড়িত।

নায়িকা পরীমণি ও তার কয়েক সহযোগীকে গ্রেফতারের পরের দিন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, পরীমণি ও পিয়াসাসহ গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১২/১৫ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা, বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ও গোপনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে র‌্যাকমেইল করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতো।

জামিন নামঞ্জুর, থাকতে হচ্ছে কারাগারেই: কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের আদালতে আসামি পিয়াসার আইনজীবী মেজবাহউদ্দিন জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে তথ্য জানা গেছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]