অনুমতি লাগে না উপকমিশনারের কক্ষে ঢুকতে

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত আগস্ট ৩১ মঙ্গলবার, ২০২১, ০২:১৪ অপরাহ্ণ
অনুমতি লাগে না উপকমিশনারের কক্ষে ঢুকতে

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক:  অফিস কক্ষে ঢুকতে লাগবে না অনুমতি। নেই সম্বোধনের বাড়াবাড়ি। যেকোনো সমস্যা নিয়ে দেখা করতে আসছেন, তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার কামরুল ইসলাম।

 

বন্দরের ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করতে এবং আমদানি-রপ্তানি গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়াতেই  এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে উপকমিশনারের  সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে পেরে খুশি বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে অফিস চলাকালীন সরেজমিনে হিলি শুল্ক স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনটির উপকমিশনারের কার্যালয়ের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। অফিস কক্ষে রয়েছে এসি (শীততাপনিয়ন্ত্রিত)। তারপরও ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনতে সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে অফিস কক্ষটি দরজা। সমস্যা সমাধানের জন্য সকাল থেকেই অনুমতি ছাড়াই উপকশিনারের কক্ষে যাচ্ছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা।

 

হিলি কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি বছর ২৫ মে হিলি শুল্ক স্টেশনে উপকমিশনার পদে যোগদান করেন কামরুল ইসলাম। তিনি যোগদানের পর নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। ফলে ব্যবসার গতির সঙ্গে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব। গেল বছরের থেকে চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই চার মাসে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৮ মে টন থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৭ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫০ বেশি। গেল বছরের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১০ শতাংশ। এ ছাড়া রপ্তানিমূল্য বেড়েছে গত বছরের তুলনায় ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

 

হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, আগেও হিলি স্থলবন্দরে অনেক কর্মকর্তা যোগদান করেছেন, বদলি হয়ে চলেও গেছেন। কিন্তু আমাদের জন্য এমন উদ্যোগ কেউ নেননি, যেটা নিয়েছেন উপকমিশনার কামরুল ইসলাম। তার অফিসে আমরা কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারি এবং যেকোনো সমস্যা তার কাছে সরাসরি বলতে পারি এবং তিনি দ্রুত সমাধান করে দেন।

 

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, কামরুল ইসলাম উপকমিশনার পদে যোগদানের পর তার অফিস কক্ষ সব সময় খোলা থাকে। এর আগে অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য দেখা যেত না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবসায়ীদের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো কিন্তু এখন আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অংশীজনদের সঙ্গে সাক্ষাতে সার্বক্ষণিক কথা শুনতে ডেপুটি কমিশনারের কক্ষ খোলা থাকে। অবশ্যই এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং প্রশংসার দাবিদার। এমন উদ্যোগে ফলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ হবে আমাদের ব্যবসার গতিও বাড়বে এবং সরকার অনেক রাজস্ব পাবে।

 

হিলি কাস্টমসের উপকমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, যোগদানের পর থেকে এই বন্দরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, রপ্তানিকারকসহ বিভিন্ন অংশীজনের জন্য আমার অফিস কক্ষ উন্মুক্ত করে রেখেছি, যাতে সেবাপ্রার্থীরা এসে বাইরে দাঁড়িয়ে না থাকেন।

 

তারা সরাসরি আমার অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে। প্রতিদিনই আমদানি-রপ্তানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অংশীজনরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দেখা করতে আসছেন এবং তারা তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। শুধু আমার অফিস কক্ষ না, হিলি শুল্ক স্টেশনের প্রত্যেক কর্মকর্তার অফিসে ঢুকতে কোনো অনুমতি লাগে না।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]