বরিশালের গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলে মরিয়া ভূমিদস্যুরা ॥

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
বরিশালের গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলে মরিয়া ভূমিদস্যুরা ॥

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রানের ভয়ে বাড়ীছাড়া মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহম্মদ।নিজের ক্রয়কৃত জমি ভোগ দখল করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের দাপটে বাড়ীছাড়া এই মুক্তিযোদ্ধা। একের পর এক হুমকী আর প্রাননাশের ভয় দেখিয়ে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডপাশা গ্রামে।

সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কমচারী মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ এর প্রায় ৩০/৪০ বছর আগে রেকডীয় এবংক্রয়কৃত সম্পত্তিতে থাকা গাছপালা কেটে সাবার করার পায়তারা চালাচ্ছে ওই এলাকার কতিপয় ভূমি দস্যুরা।

এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট তিনি এই মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং এমপি ৫৯/২১।
উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিরোধীয় তফসিল বর্নিত সম্পত্তিতে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় প্রয়োাজনীয় ব্যবস্থা নিতে গৌনদী থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি)কে নির্দেশ প্রদান করে।

উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গৌরনদী থানা’ গত ১লা সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে।

মামলা সুত্রে জানাগেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডপাশা গ্রামের জালাল আহম্মেদ দির্ঘ কয়েক বছর পূর্বে কান্ডপাশা মৌজার জে এল নং ১১১ বি.এস খতিয়ান নং ৪৩২/৪৬২ দাগ নং ২১৫৫/২১৪৮ এর মােট ৮৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৩ শতাংশ ভোগ দখল করে আসছে।

সম্প্রতি একই এলাকার মৃত. নলিনী কান্তশীল এর ছেলে বানী শীল ৫৫, বিমল শীল এর ছেলে প্রদীপ শীল ২৮ ও বিকাশ ছোট্ট শীল ৩০ সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৭/৮ জন গত ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রভাবশালী একটি চক্র জোর পূর্বক তার সম্পত্তি দখল করার পায়তারা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিনে এসকল ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা আমার জমিতে থাকা গাছপালা ও বাঁশ কেটে নেওয়ার পায়তারা শুরু করে। তারা তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ত্রাসী বাহীনি নিয়ে ধারালো অস্ত্র সাথে নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা কাটতে শুরু করে। পরবর্তীতে আমি ডাকচিৎকার দিলেসন্ত্রাসী ভূমিদস্যু বাহীনি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ জানান, এর আগেও এই চক্রটি আমার জমি দখল করতে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি আমাকে হত্যারও হুমকী দিয়েছে। তারা আমাকে প্রানে মেরে আমার ওই জমি দখল নেবে বলে হুমকী দিয়েছে।

তিনি জানান এই ঘটনার মুল ইন্দোন দাতা হিসেবে কাজ করছে এলাকার চিহিৃত ভূমিদস্যু গৌরনদী শংকরপাশা গ্রামের মৃত. নিতাই করাতির ছেলে শুশীল করাতি, মৃত.বেনুলাল ভট্টাচার্যের ছেলে অভিজিৎ ভট্টাচার্য। এরা এলাকায় সাধারন মানুষকে জিন্মি করে সন্ত্রাসী বাহীনি নিয়ে অসহায় মানুষদের জমি দখল করে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে তাদের বিভিন্ন মামলা ও হামলার স্বিকার হতে হয়।

তিনি আরো জানান, মামলা দায়েরের একদিন আগে এই সন্ত্রাসী বাহীনি আমার বাড়ীতে ৩০/৪০টি মটরসাইকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তারা আমাকে প্রাননাশের হুমকী প্রদান করে। আমি সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছাড়া। এই ঘটনায় আমি প্রশাসনের উর্ধত্বন কর্মকর্তাদের সহযোগীতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ১৯৭১ সালে আমি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছি। নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছি। ওই সময় আমি তৎকালীন গৌরনদী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ এর দেহরক্ষি ছিলাম এবং মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় সোনালী ব্যাংকে আমার চাকুরী হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধ হয়েও আমি আজ সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের ভয়ে বাড়ীছাড়া। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষে কামনা করছি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]