উজিরপুরে গৃহবধূর মাথা ফাটিয়ে অতঃপর মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তি, থানায় অভিযোগ!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০ শুক্রবার, ২০২১, ০৩:৩২ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে গৃহবধূর মাথা ফাটিয়ে অতঃপর মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তি, থানায় অভিযোগ!

তালহা জাহিদঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ভবানীপুর আজ ৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় মোঃ আলাউদ্দিন নান্না(৪৫), পিতা. মৃত. আঃ মালেক বেপারী এর স্ত্রী মোসা. রাশেদা বেগম’র সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারাপিটের ঘটনা ঘটে একই বাড়ির চাচাতো ভাই মোঃ মাহবুব বেপারি (৪৬), পিতা. মৃত. আঃ খালেক বেপারি’র সাথে, বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

এব্যাপারে ভিকটিম রাশেদা বেগম জানান, আমার ছেলে রাব্বি’র সম্পর্কে বাজে বাজে কথা বলে গালিগালাজ করে আমি প্রতিত্তোর করলে এক পর্যায় আমার মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত করে। আমার স্বামী খবর পেয়ে বাজার থেকে এসে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন।

 

এব্যাপারে ভিকটিম রাশেদা বেগম’র স্বামী মোঃ আলাউদ্দিন নান্না বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, জমি ও গ্যারেজ নিয়ে আমার সাথে পূর্ব শত্রুতার ছিলো মাহবুব’র সাথে তাই আচমা আমার স্ত্রীর উপর তারা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে হামলা করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তারপর আমি আইনের আশ্রয় নেওয়াতে শুনেছি মাহবুব পরে নিজেই নিজের ও তার মেয়ের মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। প্রশাসনের কাছে আমি এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ বিচার চাই।’

 

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মোঃ মাহবুব বেপারি উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে ও আমার মেয়েকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নান্না গং।’

 

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় ও একই বাড়ির প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, আনুমানিক বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আলাউদ্দিন নান্না বাসার সামনে তার স্ত্রী রাশেদ বেগম ও পার্শবর্তী চাচাতো ভাই মাহবুব বেপারির সাথে কথা কাট কাটি শুরু হলে, তখন নান্নার ছেলে রাব্বি(২০) চলে আসে তখন ঝগড়া ও ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায় মাহবুব বেপারি লাঠি দিয়ে রাব্বিকে প্রথমে একটা বারি দেয় তখন বারিটা রাব্বির মায়ের গায়ে পরে, এবং পরপর আবারও একটা বারি দিলে রাব্বির গায়ে পরে, রাব্বিও তখন লাঠি নিয়ে মাহবুব বেপারির গায়ে একটা বারি দেয়।

 

এতে মাহবুব বেপারি মাটিতে লুটিয়ে পরে যায়, স্থানীয় লোকজন এসে দুই পক্ষকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু পরে, মাহবুব বেপারি ঘরে গিয়ে, নিজের ও মেয়ের মাথা সামান্য কেটে রক্তাক্ত করে গালি গালাজ করতে করতে উজিরপুরের দিকে যায়।”

 

এব্যাপারে স্থানীয় আবির নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ভাই ঘটনা মারা মারি বলতে শুধু দুইটা লাঠির পিটান, কিন্তু তাতে যে মাহবুব বেপারি নিজের মাথা নিজে কেটেছে এটার মজা করে ভিডিও করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ভূলে সেভ করতে পারিনি।” এব্যাপারে থানা পুলিশ জানান, মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি, তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]