কলাপাড়ায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে পাউবো’র জমি দখল

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩ শুক্রবার, ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে পাউবো’র জমি দখল
কলাপাড়া প্রতিনিধি।। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে মাটি কেটে ঘের নির্মাণ করেছে ভূমিদস্যুরা।
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি অবৈধভাবে ঘের নির্মাণের পাঁয়তারা করে আসছিলো। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে মাটি কাটতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে গত বুধবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতের আঁধারে তারা সেখানে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ঘের নির্মাণ করে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক জে এল নং ২৪ হাজিপুর মৌজায় এস এ ৪৭১ নং খতিয়ানের জোত-জমি হতে বর্তমান বিএস ৭৭৪ নং খতিয়ানে শুদ্ধভাবে রেকর্ড করিয়ে ভােগবান মালিক দখলকার নিযুক্ত আছেন আঃ লতিফ শিকদার ও তার ভাই নূরুল ইসলাম শিকদার‌‌‌। যা হতে তারা ২ কেন্যা সাব কবলা দলিল মূলে ১-৭০ শতাংশ জমি খরিদ করে যথা নিয়মে মিউটিশন করিয়ে ভােগ দখলে থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালে নতুন ওয়াপদা নির্মিত হইলে তাদের কতেক জমি ওয়াপদার ভিতরে কতেক জমি ওয়াপদায় এবং কতেক জমি ওয়াপদার বাহিরে পরে।
এতে তাদের মােট জমির প্রায় তিনের একাংশ জমি কমে যায়। যা বর্তমানে ওয়াপদা এবং ওয়াপদার কুয়া অর্থাৎ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বাের্ডের জমি হিসাবে আছে। কিন্তু স্থানীয় মোঃ আল-আমিন, নুরুল হক, আবু সালেহ, আঃ জলিল ও সাদ্দাম খানসহ ৫/৬ জন ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে ঘের নির্মাণ করার পরিকল্পনা করে আসলে প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে এই ভূমিদস্যু চক্রটি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘের নির্মাণ শুরু করলে আব্দুল লতিফ শিকদার প্রথমে কলাপাড়া থানায় অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এতেও বন্ধ না হওয়ায় পরে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পাউবো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ফলে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ঘের নির্মাণ করে। ওই মাটি পাশের আঃ লতিফ শিকদারের রেকর্ডীয় জমিতে ফেলে ভূমিদস্যুরা ওই জমিও তাদের দখলে নেয়। দখলকৃত রেকর্ডীয় জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিদস্যু চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে দরিয়াপুর গ্রামের আঃ জব্বার পহলানের ছেলে নুরুল হক। যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়েই আবারো রকমারী অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে সে। এছাড়াও আল-আমিনকে নেপথ্যে থেকে এসব কর্মকাণ্ডে উস্কে দিচ্ছে স্থানীয় জামায়াত নেতা আঃ জলিল হাওলাদার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের কয়েকজন জানান, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লীজ নিয়েছে।‌ কিন্তু পাউবো অফিসে গিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ দায়ের করায় আঃ লতিফ শিকদার ও তার ভাই নূরুল ইসলাম শিকদারকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে ভূমিদস্যু চক্রটি। এতে তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com