আমারার কষ্টডা কেউ বুঝে না, লাল পানি খাইয়্যা পেডে অসুখ অইতাছে!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩ শুক্রবার, ২০২১, ০৮:০৮ অপরাহ্ণ
আমারার কষ্টডা কেউ বুঝে না, লাল পানি খাইয়্যা পেডে অসুখ অইতাছে!

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ১৪ নং মোজাফরপুর ইউনিয়নের বড়তলা আশ্রয়ন প্রকল্প-১ ও -২ জালিয়ার হাওরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এই প্রকল্পে ৮৫টি পরিবার বসবাস করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পানি, বিদ্যুাতের অসুবিধাসহ নানা সমস্যার কারণে অর্ধেক পরিবার এখানে বসবাসের জন্য কক্ষ  বরাদ্ধ নিলেও এখন কক্ষ ছেড়ে চলে গেছেন। আশ্রয়নপ্রকল্পে যারা বর্তমানে বসবাস করছেন তারা এমনটিই দাবী করছেন।

শুক্রবার আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে তাদের নানা অসুবিধার কথা জানা যায়। ওই প্রকল্পের ১০ নং ভবনের ৩ নং কক্ষে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন মো: আবুল কাশেমের ছেলে রিটন মিয়া। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নাই এরপরও আমারা খুব কষ্ট কইরা বাসবাস করতাছি। ওই প্রকল্পের ৮ নং ভবনের ১ নং কক্ষে বসবাসকারী আহম্মদ আলীর ছেলে ফৈইজ উদ্দিন বলেন, বিদুৎ না থাকায় আমারা খুব অসুবিধায় আছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা যে ওস্তাদের (শিক্ষক) কাছে লেহাপাড়া শিখত, বিদুৎ না থাহায় অন্ধকারে ওস্তাদ পড়াইতে আসে না। ওই প্রকল্পে বসবাসকারী খোদেজা বলেন, নিজের বাড়িঘর না থাহায় এইহানে আইছি। আমার স্বামী নাই, ছেলে থাইকাও নাই। কারণ ছেলে বিয়া কইরা অন্য জায়গায় চইলা গেছে। তিনি বলেন, লাল পানি খাইয়া আমরার পেডের অসুখ ওইতাছে। এই পানি উডাইয়া কিছুক্ষন রাখলে পানি লাল ওইয়া পানির বাসুনডাও (পাত্র) লাল ওইয়া যায়।

১২ নং ভবনের ৪ নং কক্ষে বসবাসকারী লিপা আক্তার বলেন, নিজের বাড়িঘর না থাকায় স্বামী সন্তান নিয়া এইহানে থাকতে আইছি। কিন্তু আমরার কষ্ট স্যার কেউ বুঝে না। বিদুৎ নাই, পানি নাই এইরহম আরও সমস্যা নিয়া আমারা থাকতাছি। তিনি বলেন, হুনছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দয়া দেখাইয়া আমরার মতো গরিব মানুষের সুবিধার জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প বানাইয়া দিছেন। কিন্তু যারা বানাইছেন তারা পানির সুবিধা দিছেন কিন্তু লাল পানি, বিদ্যুাতের সুবিধা নাই। অন্ধকারে কুপি বাতি জালাইয়া আমরা বসবাস করতাছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলাপাইনের লেহাপাড়া সুবিধার জন্য বিদুৎ চাই।

ওই প্রকল্পে বসবাসকারী আব্দুল হক নামের সুবিধাভোগী বলেন, আশ্রয়ন ২টি প্রকল্পে ৮৫টি পরিবার থাকার কথা। ওহন অর্ধেক পরিবার আছে। পানি বিদ্যুাতের সমস্যার সমাধান না ওইলে আরও পরিবার চইলা যাইব। তিনি পানি ও বিদ্যুাতের সমস্যা জরুরী ভাবে সমাধানের দাবি করেন।

এ প্রকল্পের নানাবিধ সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাফরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর বলেন, ৮৫টি পরিবারের মধ্যে হয়তবা কয়েকটি পরিবার যেতে পারে পানির সমস্যা আছে, পানি উঠালে কিছুক্ষন পর লাল হয়ে যায়। সেই সমস্যার সমধান করে পানীয় জলের সুবিধার জন্য এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৫টি টিউবওয়েল খুব তাড়াতারি স্থাপন করা হবে। তখন পানির সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুাতের সমস্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নাই এ কথা সত্য তবে এ বিষয়টি প্রকিক্রয়াধীন আছে।

বিদ্যুাতের লাইন স্থাপনের বিষয়ে নেত্রকোণা পল্লী বিদুৎ সমিতি কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৮৫টি পরিবারের লাইন নির্মান ও ওয়ারিং করার জন্য নেত্রকোণা পল্লী বিদুৎ সমিতির এজিএম (এমএস) ২০২০ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জমাদানের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিউত্তর পাইনি। তিনি বলেন, টাকা জমা হলে অথবা টাকা জমা দেওয়ার জন্য পত্রদ্বারা জানালেও আমরা লাইন নির্মান করতে রাজি আছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ত্রাণ শাখার প্রধান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান মৃধা বলেন, পল্লী বিদ্যুাতের চাহিদা মোতাবেক আবেদনকারী অগ্রগামী করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। হয়ত করোনাকালীন অনুবিধার জন্য এখন পর্যন্ত এর কোন প্রতিউত্তর আমরা পাইনি। পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]