ঝালকাঠিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন করে জমির বিনিময়ে রফাদফা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩ শুক্রবার, ২০২১, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন করে জমির বিনিময়ে রফাদফা

ঝালকাঠী প্রতিনিধি:: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সরমহল গ্রামে দশম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে । বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুক্রবার দিনভর দৌড়ঝাঁপ করেছে স্থানীয় একটি মহল। থানা এবং ইউনিয়ন পরিষদে ছোটাছুটির পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে ধর্ষকের বাড়িতে স্থানীয় কিছু লোকজন গ্রাম্য সালিশী বসায়।

 

সালিশদারদের পরামর্শে ধর্ষিতা মেয়েটির নামে ৫ কাঁঠা জমি লিখে দেয়ার সিদ্ধান্তে রাজী হয় ধর্ষক আল আমিনের বাবা আঃ রশিদ খান। এতেই ঘটনার রফাদফা হয়ে যায়। সালিশ মিমাংসা বৈঠকে কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের ১.২ এবং ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার লাভলী বেগম, ইউনিয়ন যুবদল নেতা টিপু সুলতান, সমাজ সেবক সাইদুর রহমান সোহেল ফরাজী, মোঃ দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

 

তবে এরা সবাই মিডিয়ার কাছে ঘটনা স্বীকার করতে নারাজ। যুবদল নেতা টিপু’র কাছে মুঠোফোনে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যায়। টিপু বলেন, সাংবাদিকদের কাছে আমার নাম্বার যে দিয়েছে সে একটা জানোয়ার। আমি কিছুু জানিনা।

 

এদিকে কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, টিপু তার ভাই দেলোয়ারকে নিয়ে শুক্রবার সকালে আমার কাছে এসে ঘটনা মিমাংসা করে দিতে বলে। আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের সালিশ মিমাংসা এখানে হবে না। তোমরা থানার ওসি অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাও।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ ক’জন ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাত ১১ টার দিকে ঘরের বাইরে বের হয় সরমহল পুনিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রী। দীর্ঘ সময় সে ঘরে না আসায় ঐ শিক্ষার্থীর বড় বোন দরজা খুলে বাইরে নামার পর বাথরুমে না পেয়ে বাড়ির লোকজন নিয়ে খুজতে বের হয়।

 

মেয়েটিকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে রাতেই পাশের বাড়ির আঃ রশিদ খানের বাড়িতে গেলে তারাও তার ছেলে আল-আলিমনকে ঘরে না পেয়ে মোবাইলে ফোন দেয়। সে দীর্ঘ সময়েও ফোন রিসিভ করেনি।

 

পরে ফজরের সময় আল আমিন বাড়িতে এসে বলে সে রাতে তার নানা বাড়ি ফরাজী বাড়িতে ছিলো। ২৩ এপ্রিল শুক্রবার সকাল সারে ৭ টার দিকে ফরাজী বাড়ির সামনে জোড়া ব্রিজের রাস্তার পাশে অজ্ঞান অবস্থায় থাকতে দেখে যুবদল নেতা টিপু সুলতানসহ এলাকাবাসী মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

 

একই গ্রামের কবির হোসেন বলেন, সকালে অসুস্থ মেয়েটিকে ভ্যানগাড়ীতে করে তার ভাই, বোন, ভগ্নিপতিকেসহ থানার দিকে নিয়ে গেছে টিপু সুলতান। নলছিটি থানার সেকেন্ড অফিসার মফিজুর বলেন, ভিকটিম বা তার পরিবারের কেউ থানায় আসেনি।

 

ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী সুস্থ্য হওয়ার পর মিডিয়া কর্মীদের বলেন, রাত ১১টার দিকে প্রস্রাব করতে দরজা খুলে বাইরে নামার পর তার চোখ মুখ বেধে বাড়ির পিছনে খালের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে মুখ খোলার পর আল আমিনের কন্ঠ শুনতে পাই বলে জানায়। আল আমিন আমার সাথে বার বার খারাপ কাজ করে। নলছিটি থানার ওসি মো. আলী আহমেদ বলেন, স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষনের কোন অভিযোগ আমি পাইনি। আর গ্রাম্য সালিশ হয়েছে তাও আমার নলেজে নেই, কেউ আমাকে জানায়নি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]