বাকেরগঞ্জ গ্রাম পুলিশের গোয়াল ঘর থেকে তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪ শনিবার, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
বাকেরগঞ্জ গ্রাম পুলিশের গোয়াল ঘর থেকে তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদ খান ও গ্রামপুলিশের চোর পুলিশ খেলায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৬ মার্চ বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ শান্তি রঞ্জন শীল এর পুত্র শ্রী সুবাস চন্দ্র শীল পেশায় গ্রাম পুলিশ তার গোয়াল ঘর থেকে তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ থানার এস আই জহির।

 

উদ্ধারকৃত গরু থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সুবাস জানান, চেয়ারম্যান এর নির্দেশে আমি কানকির চর থেকে তিনটি গরু এনে আমার বাড়িতে রেখেছি।

 

চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে জানান গরু তোমার কাছে থাক সময় হলেই আমি জানাবো কখন কি করতে হবে। গ্রাম পুলিশ সুবাস আরো জানান আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে গরু রাখতে অনিচ্ছুক জানালে থানা পুলিশ আমার বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যায়। অপরদিকে চেয়ারম্যান আসাদ খান ও গ্রাম পুলিশের নানামুখী বক্তব্য রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

থানা পুলিশকে গোলকধাঁধায় ফেলে ঘটনার সত্যতা আড়াল করা হয়েছে। থানা পুলিশ কে না জানিয়ে মাসের পর মাস গ্রামপুলিশের গোয়াল ঘরে গরু লালন পালন করা বেআইনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান গ্রামপুলিশ সুবাস কিছুদিন যাবত গরু বিক্রি করার পায়তারা চালাচ্ছিল গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে চোরাই গরু বিক্রি করতে না পারায় নিজেকে বাঁচাতে কৌশল করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আসাদ খান জানান, আমার কাছে ফোন আসে কানকির চরে তিনটি গরু কিছুদিন যাবত ঘুরতে দেখতে পায় এলাকাবাসি।

 

 

কিন্তু ঐ গরুর মালিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমি গ্রাম পুলিশ সুবাসকে ফোন দিয়ে বলি গরু গুলো উদ্ধার করতে। তবে সে যে তিন মাস যাবত গরু নিজ বাড়িতে লালন পালন করেছে থানা পুলিশকে জানায়নি সেটা আমার জানা নেই।

 

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার এস আই জহির জানান, আমি ওসি স্যার এর নির্দেশ ভরপাশা ইউপির গ্রাম পুলিশ সুবাস এর বাড়ি থেকে তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার করি। গ্রাম বাসি অভিযোগ চোরাই গরু ইউনিয়ন পরিষদে থাকবে না হলে থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হবে।

 

 

অথচ গ্রাম পুলিশ সুবাস থানা পুলিশকে না জানিয়ে চেয়ারম্যানের কথায় তিন মাস তার গোয়াল ঘরে গরু পালন করেছে মূলত চোরাই গরু তারা আত্নসাত করার জন্য। এর আগেও ভরপাশা ইউনিয়ন এর নুর ইসলাম কে একটি সরকারি ঘর দিয়ে সেখানে চারটি গরু পালন করতে দেখা যায় চেয়ারম্যান আসাদ খান কে সেই দুর্নীতির ঘটনায় একাধিক টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে।

 

অথচ সেই প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান আসাদ খানের বক্তব্য ছিল নুর ইসলাম গরীব মানুষ তাই তাকে একটি গরু কিনে দিয়েছি সে যেনো গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতে পারেন অথচ ওই সরকারি ঘরের ভিতরে চারটি গরু দেখা যায়।

 

তাহলে সেই গরু চারটিও চোরাই গরু ছিলো নুর ইসলাম গরীব হলে চারটি গরু পেলো কোথায়। সরকারি ঘরে গরু পালন ও দুর্নীতির ঘটনায় চেয়ারম্যান ও নুর ইসলামের বক্তব্যের কোন মিল ছিল না। গ্রাম বাসির দাবি বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নে গরু চুরি হচ্ছে অথচ চোর ধরা পরছে না। তাহলে এই গরু চোরের মূল হোতা কে।

 

অনেকে এমনটাই মনে করেন প্রকৃত গরু চোর রক্ষা করতে এই তালবাহানা চলছে। গ্রামবাসির একটাই দাবি তাদের ইউনিয়নে গরু চোরের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে রয়েছে গডফাদার। গ্রামবাসি এই চোরাই গরু উদ্ধারের বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চোর ধরার দাবি জানায়।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]