ক্যাম্পাসের মাটি ইটভাটায় ‘পাচারে জড়িত’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪ শনিবার, ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসের মাটি ইটভাটায় ‘পাচারে জড়িত’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাইরের ইটভাটায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন প্রগতিশীল শিক্ষকরা।

 

গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগের কথা জানান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির ১৬ জন সদস্য। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসের বেশকিছু জায়গায় পুকুর খনন ও ড্রেন নির্মাণে ইজাদার কর্তৃক বিধিবহির্ভূতভাবে শত শত ট্রাক মাটি ক্যাম্পাসের বাইরের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিক হয়েছে।

 

সরেজমিনেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পাশে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে যে পুকুর খনন করা হয়েছে, সেখানকার মাটি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার শর্ত উপেক্ষা করে ইজারাদার ক্যাম্পাসের বাইরে শত শত ট্রাক মাটি ইটভাটায় বিক্রয় করছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে ওই শিক্ষকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশের নানা পর্যায়ের মানুষ এ ব্যাপারে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। অথচ অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, প্রশাসন এ প্রক্রিয়া বন্ধে বা উক্ত ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রতিটি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এর প্রশাসনের। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি দপ্তর যেমন কৃষি প্রকল্প, এস্টেট এবং প্রক্টরিয়াল অফিসও রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ হরিলুট বা বিধিবহির্ভূতভাবে কারও কাছে ছেড়ে দেওয়া অথবা এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি ও হরিলুটকে সমর্থনের শামিল।

 

এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় ও ইন্ধন রয়েছে এবং প্রকারান্তরে তারা এই ন্যাক্কারজনক কাকে জড়িত বলে জাতির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, এটি দৃশ্যমান যে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তদন্তে প্রমাণিত দুনীতিবাজ উপাচার্য এম আবদুস সোবহান তার দায়িত্বের শেষ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চেইন-অব-কমান্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছেন।

 

কার্যত তিনি কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন। আইন প্রয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা করতে বাস্তবিক পক্ষে অদৃশ্য স্বার্থগত কারণে অবহেলা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ-বাণিজ্য করার জন্য এডহক ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রদানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি ৩১২ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি করছেন, কারণ সেখানে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জড়িত আছে বলে কথিত আছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য কর্তৃক তড়িঘড়ি করে করোনাকালীন ফাঁকা ক্যাম্পাসে এসব আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যলয় পরিবার ও জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক করছে। আমরা এসব অন্যায় ও অন্যায্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে গত কয়েকদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি যে অবৈধ উপায়ে হরিলুট হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ অবৈধভাবে হরিলুট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com