ভোলায় ভূমিহীনদের সরকারি ঘর বিক্রি!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫ রবিবার, ২০২১, ০২:২৮ অপরাহ্ণ
ভোলায় ভূমিহীনদের সরকারি ঘর বিক্রি!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলার লালমোহনের লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ আবাসনের নতুন-পুরাতন ঘর বিক্রি করে দিচ্ছেন বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা।

 

সরেজমিন জানা যায়, সৈয়দাবাদ আবাসনে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে স্থানীয় ভূমিহীনদের থাকার জন্য আবাসনের ঘর দেয়া হয়। কিন্তু যারা এই ঘরগুলো পেয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সচ্ছল, তারা নিজেরা আবাসনের ঘরে থাকত না।

 

তারা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করার জন্য নিজেদের নামে ঘরগুলো বরাদ্দ নেয়। আস্তে আস্তে ঘরগুলো পুরনো হওয়ায় এবং ঘরের উপরের টিনে মরিচা পড়ার কারণে ঘরের মালিকরা ঘরগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।

 

সৈয়দাবাদ মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-দক্ষিণপাশে একটি আবাসনে দশটি ঘর ছিল, এখন একটিও নেই। আবাসনের বেড়া, ঘরের উপরের টিন, কাঠ, লোহার ফ্রেমগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখন শুধু পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পিলারগুলোর উপর চোখ পড়েছে স্থানীয় কিছু পাতিনেতার। তারা আস্তে আস্তে এগুলোকে উঠিয়ে বিক্রি করার ধান্দা শুরু করেছে।

 

স্থানীয় অনেকেই জানান, যারা প্রকৃত আবাসনের ঘর পাওয়ার কথা তারা ঘর না পেয়ে পেয়েছে যাদের ঘর দরকার নেই তারা। তাই তারা ঘর পেয়ে এখন বিক্রি করে দিচ্ছে। অথচ এখনো অনেকেরই কষ্ট করে অন্যের জায়গায় থাকতে হচ্ছে। সরকার সবকিছু দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু সুষম বণ্টনের অভাবে সরকারের অনেক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

 

একই এলাকার মিজানের বাড়ির পূর্বপাশে আবাসনের দুইটি নতুন ঘর ছিল। দুইটি ঘরই ভেঙে ফেলা হয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, এই দুটি আবাসনের ঘর বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ঘরগুলো ভেঙে পিলারগুলো পুকুরের দক্ষিণ পাশে রাখা হয়েছে। লোহার ফ্রেমসহ অন্যান্য মালামাল উত্তর পাশের আবাসনের একঘরের সামনে রাখা হয়েছে। টিনগুলো আবাসনের আরেক বাসিন্দা হোন্ডা ড্রাইভার হানিফের বাসায় পাওয়া যায়।

 

হানিফকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমার আত্মীয় ছালাউদ্দিন ও শাহীনের নামে বরাদ্দকৃত আবাসনের দুটি ঘরের টিন আমার এখানে রয়েছে। ভিটা উঁচু করার কারণে তারা ঘরগুলো ভেঙে ফেলেছে। ভিটা উঁচু করা হলে ঘরগুলো আবার সেখানে করা হবে। ঘর বিক্রি করার বিষয়ে হানিফ অস্বীকার করেন।

 

সৈয়দাবাদ আবাসনের সরকারি ঘর বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে- এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবাসনের ঘর কখনও বিক্রি করার সুযোগ নেই। ঘর পুরনো হলে মেরামত করে ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু বিক্রি করতে পারবে না। সরকারি আবাসনের ঘর কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।

 

ব্যক্তিগত জমিতেও যদি আবাসনের ঘর করা হয়ে থাকে তাও বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। শুধুমাত্র উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর করা যাবে। যদি কারও আবাসনের ঘর প্রয়োজন না হয় তাহলে সে ফেরত দেবে; আমরা অন্য আরেকজনকে যার প্রয়োজন তার কাছে হস্তান্তর করব। যদি কেউ বিক্রি বা হস্তান্তর করে থাকে তাহলে সে অন্যায় করেছে। এসব অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]