হত্যাসহ একডজন মামলার আসামী বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বার গ্রেপ্তারে এলাকায় বইছে আনন্দ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত অক্টোবর ৯ শনিবার, ২০২১, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
হত্যাসহ একডজন মামলার আসামী বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বার গ্রেপ্তারে এলাকায় বইছে আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল মহানগরী সংলগ্ন সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্তী সর্বহারা পার্টির নেতা বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা থানা পুলিশের কাছে থাকা হাবিবুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মেম্বার হত্যা মামলায় সিআইডি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারে এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দ উল্লাস।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দুই বছর পলাতক থাকার পর বরিশালের আলোচিত কৃষক আবদুস ছালাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামী বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় উত্তর কড়াপুরের বৌসেরহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মিন্টু বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামী। মামলার এজহার নামীয় অপর ৫ আসামী ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার হলেও পুলিশের খাতায় এতোদিন পলাতক ছিলেন নিষিদ্ধ চরমপন্তী সর্বহারা পার্টির একসময়ের বরিশালের পশ্চিম জনপদের কমান্ডার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরিশালে পুলিশের তালিকায় চরমপন্তী সর্বহারা পার্টির জিয়া ও কামরুল গ্রুপের সদস্য হিসেবে নাম আছে ৬৩ জনের। তাদের মধ্যে পার্টির আঞ্চলিক নেতা জিয়া গ্রুপের অন্যতম সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে বর্তমানে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মেম্বার। পুলিশের বর্তমান তথ্যানুযায়ী, বরিশালে জেলায় এখন সর্বহারা পার্টির কোনো পক্ষেরই অস্তিত্ব নেই। অথচ জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া, মুলাদী, গৌরনদী ও সদর উপজেলার অনেক গ্রাম-জনপদে এখনো নীরব আতঙ্কের নাম সর্বহারা।

বরিশালের তৎকালীন সর্বহারা অধ্যুষিত বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এসব উপজেলায় সর্বহারা পার্টির জিয়া ও কামরুল গ্রুপ বেশ সক্রিয় ছিল। আশির দশক থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দুই গ্রুপের প্রবল প্রতাপ ছিল। সে সময় এসব উপজেলায় সর্বহারাদের হাতে জনপ্রতিনিধিসহ একাধীক রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ খুন হন। সর্বহারাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দখল, রাহাজানির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ জানায়, বরিশালের বিশাল একটি এলাকা ঘিরে তারা হয়ে উঠেছিল এক আতঙ্ক। তবে দুই পক্ষের অভ্যন্তরীন হানাহানি, র‌্যাবের ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে সর্বহারার প্রতাপ কমতে থাকে। সর্বহারাদের কেউ কেউ নিজেদের নিরাপদে রাখতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন উপজেলার ভুক্তভোগিরা জানায়, রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেওয়া নিষিদ্ধ চরমপন্তী সদস্যরা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরেনি তাদের পূর্বের অপরাধ কর্মকান্ড থেকে। সর্বহারা পার্টির আদলে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন “নিজস্ব বাহিনী”। রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে শুধুমাত্র ‘মোড়ক পরিবর্তন’ করেছেন মাত্র। সর্বহারা অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা জানায়, এখনো মাঝেমধ্যে তাদের অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে মানুষের মন থেকে সর্বহারা-আতঙ্ক কাটেনি।

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুরসহ পশ্চিম জনপদের সাধারণ মানুষ জানায়, শহরের পশ্চিম জনপদের তিনটি ইউনিয়নে সর্বহারা পার্টির নেতৃত্ব দিতেন বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু। নব্বইয়ের দশকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে যোগ দেয় বিএনপিতে। বেশ কয়েক বছর স্বাভাবিক জীবন-যাপন করলেও ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর ফের স্বরূপে ফিরে হাবিবুর রহমান মিন্টু। কিন্ত ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় কয়েকজন আ.লীগ নেতাকে ম্যানেজ করে গত একযুগ ধরে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে মিন্টু মেম্বার। বিএনপি নেতা মিন্টুর জবর-দখল ও তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হলেও তারা নাকি অসহায়।
বরিশাল কোতোয়ালি থানা এবং বিমান বন্দর থানা সূত্র জানায়, সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের উত্তর কড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোতাহার আলী হাওলাদারের পুত্র মো. হাবিবুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মেম্বারের নামে হত্যা, জোড়পূর্বক অন্যের জমি দখল-লুটপাট, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জমির ভূয়া কাগজ তৈরি করে বিক্রির নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত, চেক ডিজঅনার,. বিশেষ ক্ষমতা আইন, হত্যার হুমকিসহ প্রায় একডজন মামলা রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে সে এজাহারনামীয় এবং চার্জশিটভুক্ত আসামী। ২০১২ সাল থেকে দুটি থানা এবং বরিশাল আদালতে দায়েরকৃত এসব মামলায় পরোয়ানা ইস্যু হলেও পুলিশ একবারও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

তবে মামলাগুলোর বাদী এবং স্থানীয়রা বলছে, একসময়ের সর্বহারা নেতা মিন্টুর সাথে থানা পুলিশের চরম সখ্যতা থাকায় এতোদিন তাকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।

বরিশালের আলোচিত কৃষক হত্যা মামলার এজহারভুক্ত ৬ আসামীর মধ্যে ৫ জনকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও একডজনের বেশি মামলার আসামী প্রকাশ্য চলাফেরা করা মিন্টু মেম্বার দীর্ঘ দুই বছর ছিলো থানা পুলিশের চোখে ছিল পলাতক। হত্যা মামলাটি নিয়ে থানা পুলিশের সন্দেহজনক আচরন ও দীর্ঘদিনেও আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা না দেয়ায় মামলার বাদী নিহতের ছেলে মো. ফারুক মল্লিক থানা পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতি এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো হত্যার হুকুমদাতাকে গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ এনে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম থানা পুলিশ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করে।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজ গ্রাম উত্তর কড়াপুরের বৌসেরহাট বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় মিন্টু মেম্বারকে। ফলে মামলার বাদী এবং মিন্টুর অসংখ্য প্রতারণা ও হয়রানির শিকার ভুক্তভোগিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমান বন্দর থানাধীন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবদুস ছালামের সঙ্গে মিন্টু মেম্বরসহ আসামীদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো। ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় বারুখায়ের দিঘীরপাড় এলাকার কাওসারের চায়ের দোকানে চা খেতে যান আবদুস ছালাম। কাওসার তাকে চা না দিয়ে উল্টো গালাগালি করে এবং তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টুর নির্দেশে দোকানদার কাওসার হাওলাদার, খলিলুর রহমান, রাব্বি হাসান, জলিল হাওলাদার ও রহিম হাওলাদার কৃষক আবদুস ছালামের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর মিন্টু মেম্বর আহত আবদুস ছালামকে হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে মিমাংসার নামে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের মাধ্যমে কিছু ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং থানা পুলিশ বা অন্য কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য শাসিয়ে দেন। কিন্তু ঘটনার চারদিন পর (১৬ জানুয়ারী) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জানুয়ারী তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় ১৮ জানুয়ারী মিন্টুসহ ৬ জনকে আসামী করে বিমান বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে ফারুক মল্লিক। মামলার ৬ আসামীর মধ্যে ইতিপূর্বে ৫ জন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও মিন্টু এতোদিন ছিলো ধরাছোয়ার বাইরে। জামিনে কারামুক্ত হওয়া মামলার দুই আসামী কাওসার হাওলাদার ও খলিলুর রহমান জানান, থানায় ছালাম হত্যা মামলা দায়েরের পর থানা থেকে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে আমাদের ৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছে মামলার আসামী মিন্টু মেম্বর। কিন্ত তিনি ওই টাকা থেকে বড় একটি অংশ নিজে আত্মসাত করেছে। যাও পুলিশকে দিয়েছে তা কেবল নিজের নাম চার্জসিট থেকে বাদ দিতে এবং পুলিশী গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য। ওই দুই আসামী আরও জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমান বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ্ মো. ফয়সাল আহম্মেদের কথা বলে ১০ লাখ টাকা নিয়ে নিজে আত্মসাত করে মামলার বাদী নিহতের ছেলে ফারুক মল্লিককে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের আপসরফা মূলক কথা না বলে উল্টো হুমকি দেয়।

ওই ঘটনায় বাদী থানায় জিডি করলে পুলিশ আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে। মিন্টু বরাবরের মতো এবারও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায় বলে জানায় তারা।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল জেলা সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, কৃষক ছালাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী মিন্টু মেম্বার প্রায় দুই বছর পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বিমান বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বর্তমানে ফেনি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত শাহ্ মো. ফয়সাল আহম্মেদ আবদুস ছালাম হত্যা মামলার আসামীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, যে হত্যাটির একাধীক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলো সেই মামলায় সকল আসামীদের অব্যহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আসামী মিন্টু মেম্বর ধূর্ত প্রকৃতির লোক উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হয়তো অন্য আসামীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে তা আত্মসাত করেছে। এদিকে পিতা গ্রেপ্তারের ঘটনায় হত্যা মামলার বাদীকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে মে¤া^র পুত্র মাদক ব্যবসায়ী সজিব। বাদী ফারুক মল্লিক জানায়, আমার পিতার হত্যার হুকুমদাতাকে দুই বছর পর গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ। এখন মেম্বরের ছেলে আমাকে পরিবার নিয়ে এলাকাছাড়া করা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে।

স্থানীয়রা জানায়, মিন্টু মেম্বার ও তার বাহিনী এতোই বেপরোয়া ওই ইউনিয়নের অসহায় পরিবারগুলোর উপর বিভিন্ন প্রকার জুলুম-নির্যাতন ও হামলা-মামলা দিয়ে তাদের জমি দখলের জন্য একাধীক পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, জমি দখল করতে ব্যর্থ মিন্টু ও তার বাহিনী ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রােেমর সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা বিধাব হাজেরা খাতুন ও তার ছেলে রফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে আহত ও মালামাল লুট করে। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় মিন্টুসহ ১১ জন আসামী। অন্যদিকে এক সময়ের সর্বহারা পার্টির এই নেতার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক পরিবার হারিয়েছেন নগদ কয়েক কোটি টাকা।
ভুক্তভোগীরা জানায়, মিন্টু মেম্বরের জামাই রুহুল আমীন বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী তহশিলদার। তার মাধ্যমে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জালজালিয়াতির মাধ্যমে জমির ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। আর ওই জমি বিক্রির নামে একাধীক ব্যক্তির সাথে বায়না চুক্তির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালি সদর উপজেলার ধরান্দী এলাকার বাসিন্দা মৃত মো. আব্দুর রউফের ছেলে মো. মামুনের নিকট জমির ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাত এবং একইভাবে জাল কাগজ তৈরি করে রায়পাশা এলাকার মিনারা বেগম নামে এক নারীকে ভোগ দখলীয় সম্পত্তি থেকে উৎখাত চেষ্টার অভিযোগে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে মিন্টু ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন তারা। এছাড়া ১২টি টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মেম্বর মিন্টু ও তার শ্যালক বাদশা খানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার নুরুন্নেছা কাদের মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন। এই ঘটনায় চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করেন ভুক্তভোগি প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন জানান, টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে মিন্টু ও তার দুই সহযোগি আমার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তার অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা জানতে পেরেছি।
অভিযোগ রয়েছে, রায়পাশা-কড়াপুরের হাবিবুর রহমান মিন্টু মেম্বর ছাড়াও জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও গৌরনদীর উপজেলার সাবেক অনেক সর্বহারা সদস্য বর্তমানে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পদও পেয়েছেন।

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকন তার পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মিন্টু মেম্বার একসময় সর্বহারা পার্টির সাথে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি এখন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি দল। সবাই এই দল করতে পারে। তাই কে আগে কোন দল করতেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে বড় ধরনের অপরাধে জড়িতরা বিএনপিতে নেই বলে জানান তিনি।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, কেউ একবার ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে না, এমনটা হওয়া উচিত নয়। তবে আওয়ামী লীগে চিহ্নিত ও সাজাপ্রাপ্ত সর্বহারাদের কেউ নেই।

বরিশালের পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশের তালিকায় ৬৩ জন সর্বহারার নাম থাকলেও এখন সর্বহারাদের কোনো গ্রুপের অস্তিত্ব আছে কিনা পুলিশের জানা নেই। সর্বহারাদের অনেকেই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোতে পুনর্বাসিত হয়েছেন। সর্বহারারা যেন আর সংগঠিত হতে না পারে, এ জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]