দৌলতখানে ধর্মান্তরিত মেয়েকে পিত্রালয়ে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬ সোমবার, ২০২১, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
দৌলতখানে ধর্মান্তরিত মেয়েকে পিত্রালয়ে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান

দৌলতখান প্রতিনিধি ।। ভোলার দৌলতখানে ধর্মান্তরিত একটি মেয়েকে গাজিপুর থানায় মামলার প্রেক্ষিতে মুসলিম পরিবার থেকে তুলে এনে তার অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে মিয়ার হাটে সোমবার বিকালে স্থানীয় যুব সমাজ বিক্ষোভ মিছিল ও গণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। সহশ্রাধিক জনতার ওই বিক্ষোভ থেকে আয়োজনকারীরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

 

এ সময় টানটান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রনে সতর্কতার সাথে তৎপর ছিল দৌলতখান থানা পুলিশ।

 

ঘটনা পরম্পরায় জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল গাজিপুর থেকে প্রেমিক কামরুল হোসেনের সাথে পালিয়ে এসে ১৫ এপ্রিল শ্রাবন্তি রানী নামের ওই মেয়েটি ভোলায় নোটারি পাবলিকের মাধমে ধর্মান্তরিত হয়ে শ্রাবন্তি রানী মন্ডলের স্থলে জান্নাতুল ফেরদাউস নাম ধারণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও প্রেমিক কামরুল হেসেনকে বিয়ে করে।

 

দৌলতখান থানা সূত্রে জানা যায়, গাজিপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় গত ১৮ এপ্রিল দায়েরকৃত একটি মামলা নং ১৬ ধারা ৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ মতে রুজু করা হয়।

 

যেখানে বাদী শংকর চন্দ্র মন্ডল অভিযোগ করেন, গত ১২ এপ্রিল তার মেয়ে শ্রাবন্তি রানী মন্ডলকে (১৫বছর ২ মাস) গাজীপুরের নীলেরপাড়া একটি ফ্যাক্টরীর কর্মচারী মো: কামরুল হোসেন তার এক সহযোগীকে নিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

 

 

পুলিশ মামলার তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে কামরুল হোসেনের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান থানার দিদারুল্যাহ গ্রামে।

 

 

এর পর গাজীপুর সদর থানা পুলিশের একটি টিম ২৩ এপ্রিল দিদারুল্যাহ গ্রামের জনৈক কালাম তুফানির বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তার আইনগত অভিভাবক পিতার জিম্মায় হস্তান্তর করেন।

 

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে দৌলতখানের দিদারুল্যাহ গ্রামের যুবসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বিকেল থেকে সন্ধা নাগাদ মিয়ার হাটে বিক্ষোভ ও গণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।

 

 

এদিকে গাজিপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) তাদের ফেজবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছে,শ্রাবন্তির জন্মসনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ০৫/০২/২০০৬ ইং অর্থাৎ তার বয়স ১৫ বছর ২ মাস।শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৪ অনুযায়ী বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সে শিশু বা নাবালিকা। কাজেই বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রদায়িক চিন্তার কোন অবকাশ নেই।

 

 

এ ব্যাপারে দৌলতখান থানার ওসি বজলার রহমান বলেন, আইন কানুন না জানা স্থানীয় কিছু তরুন ছেলে আবেগবসত বিক্ষোভ করেছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com