বরিশালে ৪৪০ টাকায় কেনা তরমুজ খুচরা বাজারে ১০৪০ টাকা!

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত এপ্রিল ২৭ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে ৪৪০ টাকায় কেনা তরমুজ খুচরা বাজারে ১০৪০ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাইকারি আড়ত থেকে ৪৪০ টাকায় কিনেছেন তরমুজ। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে চাচ্ছেন এক হাজার ৪০ টাকা। অযৌক্তিক এই দাম চেয়ে ফেঁসে গেলেন এক ফল বিক্রেতা। তাকে গুণতে হলো জরিমানা। ঘটনাটি বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে তরমুজ যে দামে কেনা হয়, বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয় তার তিনগুণ দামে। এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর পাইকারি ও বিভিন্ন খুচরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়া ত্রিপুরা। অভিযানে সহায়তা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়া ত্রিপুরা জানান, রোজার মাসে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে নগরীর পোর্ট রোড, ফলপট্টি, জেলখানা মোড়, নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, চৌমাথা বাজার এবং বাংলা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এ সময় নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক ফল বিক্রেতা ১৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম ক্রেতাদের কাছে চেয়েছেন এক হাজার ৪০ টাকা। ওই ফল বিক্রেতার কাছে ক্রয় রশিদ দেখতে চাওয়া হয়। ক্রয় রশিদে দেখা যায়, পাইকারি বাজার থেকে তিনি তরমুজটি কিনেছেন ৪৪০ টাকায়। কিন্তু তিনি বিক্রেতাদের কাছে দাম চেয়েছেন প্রায় তিনগুণ বেশি। পাইকারি বাজারের থেকে খুচরা বাজারে দামের এত তফাতের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাকে জরিমানা করা হয়।

এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজার থেকে পিস হিসেবে তরমুজ কিনে অধিক লাভের আশায় খুচরা বিক্রেতারা তা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। কেনা দামের চেয়ে দ্বিগুণ ও তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করায় ছয় ব্যবসায়ীকে তিন হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই জানান, পাইকারি বাজারে যে তরমুজের পিস ২৮০ টাকা। সেই তরমুজ খুচরা বাজারে কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দামের এ অসঙ্গতির কারণে তিনি আট জন ব্যবসায়ীকে ছয় হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দুস্থ, ভূমি ও গৃহহীনদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের এক উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার (তহশিলদার) বিরুদ্ধে। তার নাম মো. নজরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের একাধিক দুস্থ, ভূমি ও গৃহহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। প্রতিটি ঘরের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে চুক্তি করেন তিনি এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা করে নেন। এভাবে ২০-২৫টি পরিবারের কাছ থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের মো. মজিবর হাওলাদার বলেন, ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন তহশিলদার নজরুল। এখন ঘরও দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। আমড়াগাছিয়া গ্রামের জতিন গোলদার বলেন, আমার মাধ্যমে আমার ছেলে সুদেব গোলদার ও একই গ্রামের মোতালেব, জলিল, গোপাল চন্দ্র, রাসেল, হালিমা ও আলমসহ সাতজনকে ঘর দেওয়ার কথা বলে মোট ৭০ হাজার টাকা নেন ভূমি অফিসের তহশিলদার নজরুল। দীর্ঘ দিন হলেও ঘর না পাওয়ায় আমরা টাকা ফেরত চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, ঘর পাবেন। আমি মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠিয়েছি।’ আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের দুই রিকশাচালক শাহ আলম ও আবু সিদ্দিককে ঘর দেবে বলে আমার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন তহশিলদার। ঘরের তো কোনো খবর নাই, টাকা চাইলেই নানান টালবাহানা করেন। অভিযোগের বিষয়ে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হব