ঝালকাঠিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৭ বুধবার, ২০২১, ০২:৩২ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।। ঝালকাঠির রাজাপুরে শুক্তাগড় মাহামুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নবসৃষ্ট পদে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার এফ এম মাহবুবুর রহমান, সভাপতি ইদ্রিস আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক, উপ-পরিচালক (অর্থ), মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আবুল কালাম নামে এক নিয়োগপ্রার্থী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

 

গত সোমবার থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান ও উপ-পরিচালকসহ (অর্থ) সাতজন বিবাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে এর জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

সেইসাথে মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখারও আদেশ দেয়া হয়েছে।

 

গত ৩১ মার্চ নিয়োগ বঞ্চিত আবুল কালাম আদালতে মামলাটি (৫৮/২০২১) দায়ের করেন। ৫ মার্চ শুনানি শেষে কারন দর্শানোর আদেশ দেন আদালত।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ১০টি আবেদন গ্রহণ করে।

 

গত ২০ মার্চ ঝালকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেখানে আবেদন করা ১০ জনের মধ্যে ৭ জন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

 

২২ মার্চ সকালে নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরির জন্য নিয়োগবঞ্চিত পাঁচ আবেদনকারী মিলে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইদ্রিস আলী হাওলাদার ও সুপার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ তোলেন। তারা ওই পদে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।

 

এদিকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ১৩ সদস্যের মধ্যে সভাপতি ও সুপার ছাড়া বাকি ১১ জনের সবাই এই নিয়োগ বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।

 

বাদী আবুল কালাম বলেন, যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অবেদনপত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি উল্লেখ করলেও মূলত সে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছি। আমি একজন কামেল পাশ এবং লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সত্ত্বেও আমাকে নিয়োগ না দিয়ে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজু নামে একজনক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ জন্য আমি আদালতে মামলা করেছি।

 

মাদ্রাসার সভাপতি ইদ্রিস আলী হাওলাদার বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে, তাকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় নিয়োগের ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা সরাসরি মাদ্রাসা, শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ করে থাকে। এখানে পদাধিকার বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। এখানে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো দায় নেই। সেখানে আমাকে আসামি করার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না।

 

রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার তালুকদার বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আমিও নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। নিয়োগের ব্যাপারে তখনতো আর কেউ প্রতিবাদ করেনি। এখন শুনি মামলা হয়েছে।

 

নিয়োগে লেনদেননের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ পাওয়া ছেলেটির সঙ্গে সভাপতি ও সুপারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]