বানাড়ীপাড়া পুলিশের তৎপরতায় ব্ল্যাকমেইলিং থেকে রক্ষা পেয়ে যা বললেন নারী

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৭ মঙ্গলবার, ২০২১, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বানাড়ীপাড়া পুলিশের তৎপরতায় ব্ল্যাকমেইলিং থেকে রক্ষা পেয়ে যা বললেন নারী

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার এক নারী স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দেন। স্ত্রীর দেওয়া ডিভোর্স মেনে নিতে পারছিলেন না স্বামী। তাই ওই নারীকে জোড় করে তুলে নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে নিপীড়ন করাসহ নগ্ন ছবি ধারণ করে রাখেন ডিভোর্স দেয়া স্বামী। পরবর্তীতে ওইসব নগ্ন ছবি দিয়ে ওই নারীকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী অসহ্য হয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ নামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ’র ইনবক্সে বার্তা প্রেরণ করেন।

পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং ফেসবুকে ওই নারীর বার্তা পেয়ে বরিশালের বানারীপাড়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দিলে অভিযুক্ত সাবেক স্বামী ইয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব তথ্যসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি প্রেসনোট পোস্ট করেন।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী থাকেন বরিশালের বানারীপাড়ায়। বিয়ে হয় ইয়ার হোসেন নামে একই এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দেন ভুক্তভোগী নারী। এরপর একদিন ওই নারীকে বরিশাল নগরীর জেলখানার মোড় থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান তার সাবেক স্বামী। পরে হাত-পা বেঁধে তার নগ্ন ছবি ধারণ করেন এবং তা দিয়ে তাকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে এই বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগী নারী বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ’ এর ইনবক্সে বার্তা প্রেরণ করেন।

মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং তার বার্তাটি পেয়ে বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিনকে নির্দেশনা দেন বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সে সম্পর্কে অবগত করতে। এরই প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী ও তার সাবেক স্বামীকে থানায় ডাকা হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্তের বক্তব্য শোনা হয়। বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ও অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ায় অভিযুক্ত ইয়ার হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করে ওই নারী বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ’র ইনবক্সে লিখেছেন, ‘আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের জন্য আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। আপনাদের ঋণ শোধ করার মতো তৌফিক আমার নেই, কিন্তু ইনশাল্লাহ আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আপনাদের জন্য নামাজে বসে দোয়া করে যাব। আমার বাবা ও বড় ভাই না থাকার কারণে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে মুখ বেঁধে মারধর করেছে। আমি এখনো রাতে ঘুমাতে পারি না সেই মারের ভয়ে। ইনশাল্লাহ, আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আপনাদের জন্য দোয়া করে যাব। মহান আল্লাহ যেন আপনাদেরকে আমাদের মতো অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]