পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত অক্টোবর ২৩ শনিবার, ২০২১, ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ
পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে আগাম আলু চাষিদের স্বপ্ন। টানা দুই দিন বৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে আগাম আলু রোপণকৃত জমিগুলো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার প্রায় দেড় হাজার চাষি। এসব চাষিরা বলছেন গত এক সপ্তাহর মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিল তারা বেশ ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।

সদর উপজেলার আকচা এলাকার আলু খেতে গিয়ে দেখা যায়, আগাম রোপণকৃত আলুর সব খেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিটি জমিতেই চাষিরা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ডুবে যাওয়া আলু তুলতে ব্যস্ত। যদিও এখনই জমি থেকে আলুর বীজ তুলে ফেলার প্রয়োজন মনে করছে না জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র মতে, এবার ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপণ করা হয়েছে। দুই দিনে জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ ৬৫.৬ মি.মি। জেলার প্রায় ২৫৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত অবস্থায় আছে।

তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে আলু তুলতে থাকা আজমতকে দেখা যায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আলু তুলে তুলে একটি ঝুড়িতে রাখছেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, পানির নিচে থাকলে আলুগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। কিছুদিন আগেই রোপণ করেছিলাম। এখনই তুলতে হচ্ছে। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। জানি না কীভাবে ঋণ শোধ করবো।

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মনসুর মিঞা। তিনি এবার ২ একর জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, এবার তো আলুতে অনেক লোকসান হয়েছে। তাই আগাম আলু চাষ করে কিছুটা লোকসান ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু সব স্বপ্ন পানিতেই ডুবে গেল। কথা হয় আলু চাষি ফারুখ মোদীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর আলুর মৌসুমে অধিক লাভ পাবার আশায় আমরা এ এলাকার আলু চাষিরা আগাম জাতের আলুর বীজ লাগাই। গত বুধবার সকালে ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড আলুর বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আজ জমি থেকে আলুর বীজগুলো তুলতে না পারলে আলুগুলো সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

আকচা গ্রামের আলু চাষিদের দেওয়া তথ্য মতে, এ গ্রামের প্রায় ৩০ জন চাষির প্রত্যেকেই সর্বনিম্ন ৮/১০ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন। আলু চাষিদের মধ্যে কামাল ১৪ বিঘা, মাজেদ উদ্দিন ১২ বিঘা, সোহেল রানা ১২ বিঘা, কমেত সাকু ১২ বিঘা, জাকের হোসেন ১১ বিঘা, আলাউদ্দিন ১০ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন।

এ ছাড়াও জেলার অন্যান্য এলাকাতেও একই সমস্যা চোখে পড়েছে। আলু চাষি কামাল জানায়, ‘এবার আমি ১৪ বিঘা জমিতে ৫৬ বস্তা আলুর বীজ লাগিয়েছি। খরচ পড়েছে প্রায় ৯৮ হাজার টাকা। সার, শ্রমিক খরচ ও জমি চাষ খরচ প্রায় ৯৭ হাজার টাকাসহ সব মিলে শুধু আলু বীজ লাগাতেই প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।

ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হাসেন জানান, বেশি লাভের আশায় প্রতি বছরই এ জেলায় আগাম আলুর চাষ হয়। টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে রোপণকৃত বেশ কিছু জমির বীজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি নেমে গেলে এর পরিমাণ বের করা সম্ভব হবে। এমন অবস্থায় বৃষ্টি চলাকালীন খেত থেকে আলু না তুলে এমনিতে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আলুগুলো তুলেও কোনো লাভ হবে না। তুলে রেখে দিলেও সেগুলো পচে যাবে। বৃষ্টি কমার পর অবস্থা অনুযায়ী ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া নাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]