লকডাউনেও বরিশালে চিরচেনা রূপ!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮ বুধবার, ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ণ
লকডাউনেও বরিশালে চিরচেনা রূপ!

এম হাসান  ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের হার যেন এখন লাগামছাড়া। প্রতিদিনই বাড়ছে হাসপাতালগুলোয় উপচেপড়া ভিড়। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের জীবিকার সংকট। আর সঠিক সময় মানুষের জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নিতেও ভুল করছে না সরকার। মানুষের জীবন ও জীবকার চাকা সচল রাখতে লকডাউনে শিথিলতা আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের দোকানপাট-শপিংমল।

 

আর এ সুযোগে বরিশালের সড়কগুলোতে যেন সেই পরিচিত চিত্র ফুঁটে উঠছে। বিশেষ করে সড়কে গাড়ি চলাচল, ফুটপাতে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী এবং মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভীর তেমনই জানান দিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। অথচ বিভাগের বরিশাল জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।

 

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সিটি কর্পোরেশনসহ ১০টি উপজেলায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত দিন দিন বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৯৭ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চার জন।

 

এ নিয়ে বিভাগটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫৭ জনে। মৃত ২৫৭ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন বরিশাল জেলায় ১০৬ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে বরিশাল জেলায় ৩৮ জন।

 

এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৩৩ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

 

বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস।

 

চলতি মাসের (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া লকডাউন বাড়িয়ে বর্তমানে তিন সপ্তাহের লকডাউন পালন করার নির্দেশনা প্রদান করেছে সরকার।

 

লকডাউন শিথিল করে দোকান-শপিংমল খুলে দেয়ায় বরিশাল নগরীর সদর রোড, বাজার রোড, নতুনবাজার, কাশিপুর বাজার, হাতেমআলী চৌমাথা বাজার, গড়িয়ারপার মোর, পোর্টরোড, ফলপট্টি, বাজাররোড এবং বিভিন্ন বাজারে পুরনো চিত্র দেখা গেছে। নগরীর ব্যস্ততম চকবাজার মার্কেটে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীর। আর চকবাজারে সড়কে প্রায় সময়ই যানজটও লেগে যায়।

 

অপরদিকে শপিংমল খোলা থাকায় নগরীর সড়কগুলোতে রিকশা, অটোরিকশা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত যানবাহন, ইজিবাইক এমনকি কোন কোন সড়কে মাহিন্দ্রাও চলাচল করতে দেখা গেছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে এবং সড়ক মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ইট-বালু বোঝাই ট্রাক-মিনি ট্রাক চলাচল করছে। নগরীর কোথাও কোথাও আবার সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এ যেন সেই চিরচেনা রূপে বরিশাল।

 

নগরীর অনেক এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ওষুধ ও মুদি দোকান ছাড়াও রড-সিমেন্ট, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক্স ও কসমেটিকস, হার্ডওয়্যারসহ অনেক দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। লকডাউন উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় দোকান ও গোডাউন খোলা রাখায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সুব্রত কুমার বিশ্বাস।

 

এদিকে বরিশালের মোট জনসংখ্যার মাত্র একভাগ রাস্তায় নামলেও তা শূন্যতে নামিয়ে আনার নানামুখী তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম।

 

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, জনগণকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। নিজ, পরিবার, সমাজ ও দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে লকডাউন চলাকালীন সময়ে সবাইকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অপরদিকে প্রাণঘাতী করোনার বিস্তার রোধে একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। বহিরাগতদের প্রবেশ ও নগর থেকে বের হওয়া ঠেকাতে মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১০টি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি বসানো হয়েছে ক্লোজডসার্কিট ক্যামেরাও। এরই মধ্যে বরিশাল মহানগরীর তিনটি এন্ট্রি পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান (বিপিএম-বার) বলেন, বরিশাল মহানগরীকে করোনামুক্ত রাখতে শুরু থেকেই আমরা সক্রিয় কাজ করছি।

 

চেকপোস্টগুলোয় কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন এবং পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেসব তদারকির জন্য ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]