ভোলায় ভাবিকে হাত-পা বেঁধে পেটালো দেবর

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ণ
ভোলায় ভাবিকে হাত-পা বেঁধে পেটালো দেবর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলার লালমোহনে ভাবিকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। গত শনিবার (২৪ এপ্রিল) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পন্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী লিমা বেগম ওই বাড়ির প্রবাসী কবির পন্ডিতের স্ত্রী, তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী কবিরের স্ত্রী লিমার জন্য ফুলবাগিচা বাজারের দোকানদার ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির সোহাগের বিকাশের মাধ্যমে খরচের টাকা পাঠাতেন। ওই টাকা উত্তোলন ও অতীব প্রয়োজনে সোহাগের কাছ থেকে ধার করতেন তিনি।

 

এদিকে লিমার দেবর ডিস ফরিদের সাথে সোহাগের ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব থাকায় ভাবিকে সোহাগের সাথে কথা বলতে দেখে উভয়কে ফাঁসাতে ফন্দি আঁটে ফরিদ।

 

সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল রাতে সোহাগ ভাবির ঘরে ঢুকেছে বলে অপবাদ দিয়ে দেবর ফরিদ, শশুর ও শাশুড়ি মিলে লিমাকে মারধর করে।

 

পরদিন সকালে লিমাকে ঘর থেকে বের করে হাতে-পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রখর রোদে ফেলে রাখে দেবর ফরিদ। পরে লিমাকে তার মামা শশুর সিরাজ মাস্টারের কাছে নিয়ে যায় ফরিদ ও তার পরিবার।

 

ভুক্তভোগী লিমা জানান, সোহাগের সাথে আমার কোন অনৈতিক সম্পর্ক হয়নি, তবে ফোনে কথা হতো। তবুও আমার মামা শ্বশুর আমাকে স্বামীর সংসার টিকাতে হলে দায় মেনে নিয়ে সোহাগকে ফাঁসাতে বলে।

 

এ সময় সিরাজ মাস্টার নিজের হাতে চেয়ারম্যান বরাবর একটি দরখাস্ত লিখেন এবং আমার স্বাক্ষর নেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাসায় নিয়ে আসেন।

 

তবে ততক্ষণেও আমার কোন চিকিৎসা করানো হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের বাসায় এসে লিখিত অভিযোগ চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয় সিরাজ মাস্টার।

 

এদিকে সোহাগ ও তার অভিভাবকদেরকে ডেকে পাঠান চেয়ারম্যান। পরে বিচারের মজলিশে সোহাগের অভিভাবক তাকে মারধর করে।

 

তবুও বিচার হয়নি দাবি করে আমাকে শিখিয়ে দেয়া কথাগুলো দিয়ে অভিযুক্ত করে বাবার বাড়ি পাঠাতে উদ্যত হয় তারা এবং চেয়ারম্যান সাহেবের বাসায় ফেলে রেখে চলে যায়।

 

পরে চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রী আমার নির্যাতনের বর্ণনা শুনে ও চিত্র দেখে বাবাকে খবর দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পাঠান।

 

লিমার ৫বছরের কন্যা অরিণ জানায়, ফরিদ কাকা আমার মাকে হাত-পা বেধে মেরেছে।

 

তবে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে দেবর ডিস ফরিদ বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে শুনেছি ভাবিকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে রিকশায় তুলতে গেলে জোর জবরদস্তি করায় ভাবিকে এক মহিলা চড় থাপ্পড় দিয়েছে।

 

এ ব্যাপারে সিরাজ মাস্টার বলেন, লিমার শশুরের দেয়া সংবাদ পেয়ে তাদেরকে আসতে বলি। পরে সোহাগের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় লিমা।

 

তবে অভিযোগপত্র নিজ হাতে লিখেছেন বলে স্বীকার করেন সিরাজ মাস্টার। লিমাকে হাত পা বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি পরে চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছেন বলেও জানান তিনি।

 

লালমোহন সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া বলেন, প্রবাসী কবিরের স্ত্রী ও সোহাগ কে অনৈতিক কাজের সময় হাতেনাতে ধরার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল সিরাজ মাস্টার।

 

পরে মেয়েটিকে আমার বাড়িতে ফেলে রেখে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে সটকে পরে তারা।

 

লালমোহন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, এমন ঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। তবে লিমা বেগমের শশুর গত মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com