বরিশালে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে সর্বোচ্চ রেকর্ড! জনমনে আতঙ্ক

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৭ বুধবার, ২০২১, ০৫:২৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে সর্বোচ্চ রেকর্ড! জনমনে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিগত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৩৫ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। আর করোনা পজিটিভ একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৮ জন।

 

বুধবার (৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়। ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল খালেক নামের ওই ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

ডা. বাসুদেব কুমার দাস সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার কম ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার বেশি। এই অবস্থায় শুধু করোনার টিকা গ্রহণ করলেই চলবে না স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে বরিশাল জেলায় ৬৪ জন। এরপর ৩২ জন ভোলায়, ১৩ জন পিরোজপুরে, ১১ জন পটুয়াখালীতে, ১০ জন ঝালকাঠিতে এবং বরগুনায় ৫ জন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৩ মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৯০১ জন।

 

এরমধ্যে সর্বোচ্চ বরিশালে ৫ হাজার ৪৪০, এরপর পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৮৫৬ জন, পিরোজপুরে ১ হাজার ৩১৩, ভোলা ১ হাজার ২৫৫ জন, বরগুনা ১ হাজার ৯৫ জন এবং ঝালকাঠিতে ৯৪২ জন।এই ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৮ জন রোগী বরিশাল বিভাগে করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন। যা নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৭১২ জন। অর্থাৎ আক্রান্ত শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ১৮৯ জন করোনারোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে কিছু রোগী হাসপাতালে, অন্যরা নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন বরিশাল জেলায়। মোট মৃত্যুবরণ করা ২১৮ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ ৯৪ জন, এরপর পটুয়াখালীতে ৪৪ জন, পিরোজপুরে ২৭ জন, বরগুনায় ২২ জন, ঝালকাঠিতে ২০ জন এবং ভোলায় ১১ জন ।বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম ২০২০ সালের ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ ফেরত পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার এক শ্রমিক আক্রান্ত শনাক্ত হন।

 

সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত ৩৯৪ দিনের আপডেটে এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।এদিকে প্রথম ঢেউ কিছুটা স্থিমিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রোগী শূন্য ছিল এই অঞ্চলের একমাত্র ডেডিকেটেড করোনা চিকিৎসার শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি এই ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মঠবাড়িয়ার খালেদা বেগম।

 

এরপর দুই মাসের মত করোনা ইউনিট সম্পূর্ণ খালি ছিল। তবে ৭ মার্চ আবার করোনা ওয়ার্ডে একজন রোগী ভর্তি হয়। সেই থেকে দিনে দিনে বাড়ছেই ভর্তির সংখ্যা। আর লোকবল সংকটের মধ্যেই এখানো চালানো হচ্ছে অতিরিক্ত দেড়শত শয্যার করোনা ওয়ার্ডের কার্যক্রম। সঙ্গত কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কিভাবে মোকাবিলা করবেন তা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তারা।

 

এ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন জানিয়েছেন, আমাদের যা সম্বল আছে তা দিয়েই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যকম চলমান রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডের জন্য নতুন করে কোনো চিকিৎসক, নার্স, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে মূল হাসপাতালে যা জনবল রয়েছে সেখান থেকে নিয়েই চলছে করোন ইউনিট।১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ২০১৩ সালে এক হাজার বেডে উন্নীত করা হয়।

 

 

কাগজে কলমে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের লোকবল দিয়ে চলছে এখনো। সেই এক হাজার শয্যার সঙ্গে ২০২০ সালে নতুন করে দেড়শ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হলে সেই সংকট আরো বেশি বৃদ্ধি পায়। করোনা সংকট মোকাবিলায় গত বছর ৪০ জন চিকিৎসক সংযুক্ত করা হলেও প্রথম ঢেউ শেষ হওয়ার আগেই অনেকেই নিজেদের পছন্দমত অন্য কর্মস্থানে যোগ দিয়েছেন।

 

 

এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, করোনারোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যনুলা। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২২টি ক্যানুলা থাকলেও ১০টির মতো বিকল হয়ে পড়ে আছে। আইসিইউ থাকলেও তা বিকল হলে পরিচালনার জন্য নেই টেকনিশিয়ান।হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের অনেক কিছুই নেই।

 

 

এর মধ্য থেকেই চলতে হচ্ছে। সব থেকে বড় অভাব হচ্ছে করোনার এই চরম সংকটকালীন সময়ে হাসপাতালে পরিচালক নেই। এ হাসপাতালটির করোনা ওআইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০৭ জানের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১৪৬ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে আর ২১ জনের রিপোর্টের ফলাফল প্রাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ভোলায় করোনার সংক্রমণ রোধে জনসচেতনায় ‘মানবতার দেয়াল’

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রোধে জনসচেতনায় এবার বসানো হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’।বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে শহরের সদর রোড চত্বরে ‘বেস্ট ইনিসিয়েটিভ অব ভোলা অ্যাসোসিয়েশন (বিবা)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ মানবতার দেয়াল বসানো হয়।সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানবতার দেয়ালের কার্যক্রম সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এখানে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, খাবার ও পোশাক। ‘আপনার প্রয়োজনে নিয়ে যান, অন্যের প্রয়োজনে দিয়ে যান’ – এমন লেখা টাঙ্গিয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। মানবতার দেয়াল নামে এ স্টোর থেকে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। শুধু তাই নয়, করোনা সচেতনতায় চালানো হচ্ছে প্রচার-প্রচারণাও।

 

আর্তমানবতার সেবার এ কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছেন পথচারী, রিকশাচালক, সচেতনমহলসহ সর্বস্তরের মানুষ।সরেজমিন দেখা গেছে, দরিদ্র অনেক পরিবার মানবতার দেয়াল থেকে খাদ্য সামগ্রী বিশেষ করে চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও তেল সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ নিচ্ছেন করোনা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।অন্যদিকে বৃত্তবান ব্যক্তিরাও বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত।

 

মানবতার দেয়ালে নিজ নিজ উদ্যোগে তারা জমা দিচ্ছেন বিভিন্ন সামগ্রী।এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয়রা বলছেন, এমন উদ্যোগে একদিকে যেমন মানুষ করোনা বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ কিছুটা হলেও সহযোগিতা পাচ্ছেন।দৈনিক ভোলার বাণী সম্পাদক মাকসুদুর রহমান বলেন, করোনাকালে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে বিবা।

 

এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার। প্রতিটি মানুষের উচিত নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।বিবা প্রতিষ্ঠাতা মনিরুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে দরিদ্র্য মানুষ কিছুটা হলেও অসহায় পড়ে পড়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মানবতার দেয়াল বসিয়েছি।

 

এখান থেকে কিছুটা হলেও মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।গত বছরও আমরা প্রায় আট মাস করোনার সচেতনতায় হাতধোয়া কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের এ কাজে অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]