মুজিব জন্মশতবর্ষ পরেও শতভাগ ঈদ বোনাস পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ
মুজিব জন্মশতবর্ষ পরেও শতভাগ ঈদ বোনাস পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মুজিব জন্মশতবর্ষ ও করোনা মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি শতভাগ ঈদ বোনাস আইনের মারপ্যাঁচেই রয়ে গেছে। তাই এবছরও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকরা।

 

এব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ নেতা প্রভাষক আমিনুর রহমান শামীম এক মতবিনিময় সভায় জানান ‘সংশোধিত নতুন নীতিমালায় বোনাসের প্রসঙ্গটি আনা হলেও শতভাগ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজনীতা হয়তো রয়েছে এবং সরকারকে যদি

 

আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ বোনাস দিতে হয় তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

 

তাই বলে মুজিব জন্মশতবর্ষ পরেও এবং করোনা পরিস্থিতি ও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এবার ঈদুল ফিতরের শতভাগ ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বোনাস বৈষম্য দূর করা সময়ের দাবি।

 

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শতভাগ ঈদ বোনাসের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

 

আজ ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মনোহরদী সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা সরকারের কাছে ঈদুল ফিতরে শতভাগ ঈদ বোনাস সহ বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতারও দাবিও জানান তারা।

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরে শতভাগ ঈদ বোনাস না পেলে তারা ঢাকা প্রেসক্লাব চত্বরে ঈদ উদযাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

 

এছাড়া মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বোনাস দাবি করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)। গত ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বরাবরে সংগঠনটি অনলাইনে প্রেরিত এক লিখিত আবেদনে এই দাবি জানান।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৭ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ ২৮ বছরেও এমপিওভুক্ত হতে না পেরে চরম অর্থ সংকটে দিনযাপন করছেন অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা। বেতন বৈষম্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হচ্ছে না।

 

শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা অতীব জরুরি।

 

শিক্ষায় অবকাঠামোগত প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে, কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও চরম বৈষম্যমূলক, গতানুগতিক নানা ধারায় বিভাজিত।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ বেঁচে থাকলে হয়তো আরও অনেক আগেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হতো। বর্তমানে সরকার হাজার হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে।

 

মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়েও কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করেছে। কিন্তু একসঙ্গে জাতীয়করণ না করার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তথা পুরো দেশবাসী।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com