চার মাসও টিকলো না কুয়াকাটার বিকল্প সড়কটি! প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত নভেম্বর ৩০ মঙ্গলবার, ২০২১, ০১:১৮ অপরাহ্ণ
চার মাসও টিকলো না কুয়াকাটার বিকল্প সড়কটি! প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাত্র চার মাস আগে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা যাওয়ার বিকল্প সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে এ সড়কের কোন কোন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোনো স্থানে সড়কের দু’পাশ নিচু হয়ে গেছে। আর প্রতিনিয়তই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা।

এছাড়া বালিয়াতলীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গা এখন খানাখন্দে ভরা। এর ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ পর্যটকবাহী যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর গত জুন মাসে শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ কাজটি পরিচালিত হয়েছে। নির্মাণ কাজের শুরুতেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডি জানায়, এই সড়কের ধারণা ক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু ধান ব্যবসায়ীরা ২০/২৫ টন ট্রাক দিয়ে পণ্য পরিবহনের ফলে এমন অবস্থা হয়েছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, মূলত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে টোল না থাকায় এই সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন প্রবেশ করছে বলে। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহীম বলেন, ‘বালিয়াতলীর বৈদ্যপাড়া চৌরাস্তার কাছে একটি অংশ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটি তৈরি করায় অল্প সময়ের মধ্যে এই অবস্থা হয়েছে।’

 

বাসিন্দা ইউসুফ ডাকুয়া বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের জন্য চার মাস যেতে না যেতেই এ সড়কটি বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ও কুয়াকাটাগামী পর্যটকরা।’ তাই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি তাদের।

বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ধান ব্যাবসায়ীরা অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের ফলে সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। ৫/৭ টনের বেশি ভারি ট্রাক চলাচলের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল তা মানছে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

 

 

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মহর আলী বলেন, ‘সড়কটি পরিদর্শন করে দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান জানান, মূলত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে টোল না থাকায় ওই সড়ক দিয়ে একটি মহল ভারি যানবাহন প্রবেশ করাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে কথা বলা হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]