কলাপাড়ায় হামলা-পাল্টা হামলায় পন্ড সালিশ বৈঠক

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১ বুধবার, ২০২১, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় হামলা-পাল্টা হামলায় পন্ড সালিশ বৈঠক
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়ায় হামলা-পাল্টা হামলায় পন্ড হয়ে গেছে স্বামী-স্ত্রী বিরোধ মিমাংসার সালিশ বৈঠক।
রবিবার সকাল নয়টায় উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের এ ঘটনার একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করছে এ হামলা জন্য। এদিকে এ ঘটনায় উভয় পক্ষ যে কোন সময় নতুন করে সংঘর্ষের জড়াতে পারেন, বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ভূক্তোভোগী মুসা গাজী, তার পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, কুড়ি বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের তাইজুল ইসলামের কন্যা পারভীন বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে হাসান ও সুমাইয়া নামে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রী পারভীন বিভিন্ন সময় বেপরোয়া চলাফেরা সহ অযথা বাড়ী ছেড়ে চলে যেত। সালিশ ঘটনার ২০-২৫দিন পূর্বে জমি অধিগ্রহনের পাওয়া ক্ষতিপুরনের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে বাড়ী ছেড়ে অজানা কোথায় চলে যায় স্ত্রী পারভীন।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত এলাকাবাসী মিজানুর প্যাদা, চানঁ মিয়া বলেন, এ ঘটনার ১৫ দিন পর পারভীন কলাপাড়া থানায় মুসা গাজীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার দ্বায়িত্ব দেয়া হয় লালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফোরকান প্যাদাকে। সর্বশেষ রবিবার সকালে সালিশ বৈঠক চলাকালীন পারভীনের চাচা আমছার গাজীর উচ্চ কথায় উভয় পক্ষ বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় পারভীন, তার বোন রহিমা, ভাই মশিউর, চাচাতো ভাই লিটন মিলে মুসা গাজীসহ তার ভাইদের ব্যাপক মারধর করে।
মুসা গাজী বলেন, মালেয়শিয়া থাকাকালীন তার জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিপুরন বাবদ ১৮ লাখ টাকার খরচ বাদ দিয়ে ১৬ লাখ টাকা স্ত্রী পারভীনের নামে উত্তোলন করেন। এ টাকা নিয়ে অনেক তালবাহানার পর সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা তাকে দিয়ে বাকী ৬ লক্ষ টাকা স্ত্রী পারভীন রেখে দেয়। ব্যবসার প্রয়োজনে এ টাকা চাইতে গেলে পারভীন ক্ষুদ্ধ হয়ে বাড়ী ছেড়ে কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। কিছুদিন পরে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ নিয়ে আমার বাড়ীতে আসে পারভীন ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পারভীন বেগম বলেন, স্বামী মুসা গাজী সামান্য অজুহাতে তাকে শাররীক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তার এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বাবার বাড়ী চলে আসেন। তিনি আরো বলেন, সালিশ বৈঠকের দিন মুসা এবং তার ভাইয়েরা বাবাসহ আমাকে নির্দয় মারধর করে।
এদিকে পারভীন বেগমের বক্তব্য নেয়ার কিছু সময় পর তার বোন পরিচয়ে রহিমা বেগম নামে একজন এক প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে কল করে বলেন, তার বোনের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি আইনী ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি যারা নিউজ করবেন তাদের শিক্ষা দিয়ে দিবেন।
লালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফোরকান প্যাদা বলেন, সালিশ বৈঠকের দিন উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে তাদের থামতে গিয়ে কয়েকটি চড়-থাপ্পর দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর সালিশ পন্ড হয়ে গেছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]