ভোলায় ইলিশের আকাল, ঋণের বোঝা নিয়ে হতাশায় জেলেরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ৪ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৩:৫৩ অপরাহ্ণ
ভোলায় ইলিশের আকাল, ঋণের বোঝা নিয়ে হতাশায় জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে দীর্ঘ দুই মাস পর ইলিশ শিকার করতে গিয়ে জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। নদীতে গিয়ে ইলিশ না পেয়ে চরম হতাশা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।

জেলেরা বলছেন, দীর্ঘ দুই মাসের ধার-দেনা ও ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন নিয়ে ইলিশ শিকার করতে নদীতে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু নদীতে গিয়ে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশা নিয়ে ফিরছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত শনিবার মধ্যরাতে ধার-দেনা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারের নেমে পড়েন জেলেরা। কিন্তু নদীতে জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছেন না জেলেদের জালে। দুই মাসের ধার-দেনা, মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা ট্রলারের তেলের খরচও উঠছেন জেলেদের।

ধনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেঘনা নদীর জেলে মো. ইউনুছ মাঝি জানান, দুই মাস পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হতাশ হয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি।

তারা আরও জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে প্রতিদিন ৩-৪টি ইলিশ মাছ পায়।

নাছির মাঝি এলাকার জেলে ভূট্ট মাঝিসহ একাধিক জেলেরা জানান, আমরা ১০ জন জেলে প্রতিদিন ট্রলার নিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে যাচ্ছি। কিন্তু যে পরিমাণ মাছ পাই তা ৩-৪ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারি। এতে তেলের খরচও উঠেনি।

তারা আরও জানান, ভাবছিলাম অভিযানের পর নদীতে গিয়ে অনেক মাছ ধরে ধার-দেনা পরিশোধ করতে শুরু করমু। আমাদের দুঃখ দুর হবে কিন্তু তা আর হলো না। অভিযানের দুই মাস যে ধার-দেনা ও এনজিওর কিস্তির টাকা বাকি ছিল তা এখন পরিশোধ করমু কেমনে।

ধনিয়া তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আবু তাহের দালাল জানান, অভিযানের সময় আমরা মৎস্য আড়ৎদাররা ঢাকা, বরিশাল ও খুলনার পাইকারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে জেলেদের দাদন দিয়েছি। কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে গিয়ে ৩-৪টি মাছ নিয়ে ফেরায় আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত নোনা পানি ও দীর্ঘ দিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীতে মাছের পরিমাণ কম। তবে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ নদীতে উঠে আসবে। তখন নদীতে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ইলিশের আভয়াশ্রম হওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ১৯০ কিলোমিটার নদীতে ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]