যেনে নিন আসলেই কি মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে?

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৮ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
যেনে নিন আসলেই কি মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে?

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) রাত ১২ টার পর ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা যায়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা হয় নি।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা সিকদার তার ফেসবুক টাইমলাইনে মামুনুল হককে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন। সূত্রঃ সময় টিভি

এদিকে গত দুই দিনে ঢাকায় ও নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার পর তাকে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পাশাপাশি সাদা পোশাকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তার গতিবিধি নজরদারি করছেন। সরকারের একাধিক মন্ত্রী গত দুই দিনে হেফাজতের তাণ্ডবের ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মামুনুল হককে গ্রেপ্তারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। মামলা হয়েছে। শর্ট টাইমের মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার অভিযান চালাব। আবার আসামিকে গ্রেপ্তারে সময় লাগতে পারে, খুঁজতে হবে, আসামি কোন ঠিকানায় আছেন তা জানতে হবে। তবে আমাদের সব ধরনের তৎপরতা চলছে।’

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় রিসোর্ট কাণ্ডের পর মামুনুল হক তার মোহাম্মদপুরের বাসায় আর ফেরেননি। এদিকে সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং ১ নম্বর সড়কের ওই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

মামুনুল হক শিক্ষকতা করেন মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায়। রিসোর্ট কাণ্ডের পর গত সোমবার ওই মাদ্রাসায় হেফাজত নেতারা জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মামুনুল হক। এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম কাসেমী বলেন, ‘তার (মামুনুল) সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছে গত সোমবার। উনি মিটিংয়ে ছিলেন। এরপর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি। উনি কোথায় আছেন জানি না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, শনিবার রাতে সোনারগাঁ থেকে ফিরে মামুনুল হক পল্টনে বোনের বাসায় যান। সেখান থেকে যান মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায়। সেখান থেকে বসিলায়। গত সোমবার তিনি জামিয়া রাহমানিয়ায় এসেছিলেন। তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল রাতে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারায় আরিফ-উজ-জামান নামে এক ব্যবসায়ী মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে।

এদিকে ৬ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২৫০-৩০০ জনকে। মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ে ভাঙচুর, সহিংসতা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান বাদি হয়েছে মামলাটি করেছেন।

এই দুই মামলা ছাড়াও সারাদেশে হেফাজতের তাণ্ডবের পেছনে মামুনুল হকের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া কোনো মামলায় তাকেসহ হেফাজত ইসলামের কোনো নেতৃবৃন্দকে আসামি করা হয়নি। পুলিশ বলছে, তাণ্ডবের পেছনে তাদের পরিকল্পনা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে মামলায় তাদের নাম যুক্ত হবে।

সোনারগাঁ থানায় মামলায় প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত অনুসারে বাকি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশব্যাপী তাণ্ডবের পর হেফাজতে ইসলাম কঠোর হাতে দমনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সোমবার সচিবালয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, তদন্তে যারাই চিহ্নিত হবে, ব্যবস্থা নেয়া হবে সবার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, ‘যদি তিনি (মামুনুল) অপরাধ করে থাকেন, মামলা তো হবেই। মামলা তো মামলার গতিতে চলবে। সেখানে কারো হাত নেই। যে অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী কোর্ট তার বিচার করবে।’

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সকল মাত্রা অতিক্রম করেছে।’

এদিকে বুধবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্মের নামে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত তাণ্ডব চালাচ্ছে। আঘাত এসেছে, এখন প্রতিঘাত করতে হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]