বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শাক

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ৫ বুধবার, ২০২১, ০২:৫৭ অপরাহ্ণ
বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শাক

মোঃ আরিফুল ইসলাম বাউফল প্রতিনিধি>> মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। জীববৈচিত্রের এক অপরূপ সৌন্দর্যে নিহিত রয়েছে এ পৃথিবী। সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টির মাঝে এমন কোন সৃষ্টি নেই যা মানুষের কল্যাণে প্রতিফলিত না হয়।

 

মানব কল্যানের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে সমস্ত জীববৈচিত্র,তেমনি বাহারি রকমের শাক সবজির মধ‍্যে আবহমানকাল থেকেই ঢেঁকি শাক খুব জনপ্রিয় ছিল সবার কাছে।

 

এক সময়কার গ্রামবাংলার অতি সু-পরিচিত ও অতি প্রিয় একটি শাক ছিল ঢেঁকি শাক। আধুনিকতার ছোয়ায় আজ তা বিলিন প্রায়।

আগের দিনে ভিটায় ঝোঁপে ঝাড়ে বাড়ির আঙ্গিনায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত টেঁকি শাক।

রান্নার কিছু না থাকলে শাশুড়ি পুত্রবধূকে অথবা মা মেয়েকে এমনকি স্বামী তার স্ত্রীকে কইত আরে চিন্তা নাই আজ ঢেঁকি শাক রান্না করলেই চলবে পারলে সাথে একটু ডাল।

 

এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই ঢেঁকি শাক চিনে না। নিত‍্য নতুন বাড়ি ঘর তৈরি হওয়াতে ভিটে,ঝোঁপ -ঝাড় না থাকায় জীব বৈচিত্রের রহস্যময় এমন রূপের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ঢেঁকি শাক এখন বিরল।

 

সরকারি উদ্যোগে বানিজ‍্যিকভাবে ঢেঁকি শাকের আবাদ করলে হয়ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কিছুটা প্রস্ফুটিত হত।

গ্রামবাংলার প্রত্যেক মানুষ এই শাক বেশি পছন্দ করে কারণ এই শাক খেতে খুব সুস্বাদু। এর একটা সুন্দর নাম আছে বৌ ঢেঁকি।

 

হয়তো আগের দিনের মাথা নোয়ানো নতুন বৌ এর মত শাকের ও মাথা নোয়ানো থাকে, তাই বউ যত পুরাতন হয় মাথা ও মাথার ঘোমটা তত উঁচু হয় শাকটার জীবনচক্রও তেমনি। নতুন বৌ এর মাথা নোয়ানো যেমন হারিয়ে গেছে তেমনি ঢেঁকি শাক ও এখন বিলুপ্ত প্রায়।

শাক হিসেবে যেমন কদর ছিল ঢেঁকি লতার তখন বিকল্প ব্যবহারও ছিল অপরিসীম।

 

যখন আধুনিক রশি গ্রামের মানুষ পেত না তখন পরিপক্ব ঢেঁকি লতা ফালি করে রোদে শুকিয়ে রশির বিকল্প হিসেবে বেড়া,খড়ের চালের স্ট্রাকচার বাধার কাজে ব্যবহার করত।

এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় নেই খড়ের ঘর নেই সেই মানুষ, নেই ঢেঁকি লতার ব‍্যবহার।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com