বাজেটে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যদের

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ৫ বুধবার, ২০২১, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
বাজেটে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যদের

নিজস্ব প্রতিবেদক>> কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের তরুণদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে,

 

আসন্ন বাজেট ২০২১-২২ এ সিগারেটের স্তরভিত্তিক করকাঠামো বাতিল করে ও সব স্তরের সিগারেটে সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির দাবি তুলে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংসদ সদস্যরা।

 

মঙ্গলবার (৪ মে) ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’ এর আয়োজনে ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যে করারোপ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব আলোচনা উঠে আসে।

 

ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি’র সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক এমপি।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে আসন্ন বাজেটে তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট কর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

 

এগুলো হলো- সকল স্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য কার্যকরভাবে বাড়ানো হবে এবং সমন্বয় করে সবগুলোর খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করা এবং ৫ বছর মেয়াদী কার্যকরী তামাক কর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তামাকের ব্যবহার হ্রাস ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা।

 

এগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। প্রায় ৮ লাখ তরুণকে নতুন করে ধূমপায়ী হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

এছাড়াও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ফোরামের নানা উদ্যোগ নিয়ে একটি উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

 

সেখানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৫৩ সংসদ সদস্যের সুপারিশ, তামাক আইন সংশোধনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ১৫২ সংসদ সদস্যের সুপারিশ এবং তামাকের উপর উচ্চ করারোপের দাবিতে ৫২ সংসদ সদস্যের সুপারিশের বিষয়গুলো উঠে আসে।

 

এ বিষয়ে প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি বলেন, ‘আপনারা অর্থমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন। শুধু এতেই কাজ হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং ফোরামের সবাই যদি যৌথভাবে অর্থমন্ত্রীকে বুঝাতে পারেন, তাহলে ভালো হয়।

 

তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু এড়িয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তাকে বলতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্টকে আপনি সমর্থন করেন কিনা। আপনারা অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলুন। তাহলে আপনারা সফল হবেন। তামাকের ওপর আপনাদের সুনির্দিষ্ট করারোপের এই উদ্যোগ সফল হোক।’

 

আলোচনায় সভাপতি বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, এমপি বলেন, ‘আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’- নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তারই অংশ হিসেবে বাজেটে তামাকের কর কাঠামো শক্তিশালী ও কর বৃদ্ধির সুপারিশ জানিয়ে ৫২ সংসদ সদস্য মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।’

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com