বরিশালে ৪০০ টাকার বিনময় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ!

Barisal Crime Trace -GF
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩ সোমবার, ২০২২, ০৭:৫০ অপরাহ্ণ
বরিশালে ৪০০ টাকার বিনময় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকার সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করলেও বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক স্তরের কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের বই পেতে গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫শ টাকা। সরকারের মহতি উদ্যোগ দু’একটি প্রতিষ্ঠানের কারনে ম্লান হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সচেতন মহল।

নিয়ম নীতির বাইরে পুরান বই স্কুলে জমা নেয়া ও টাকা নিয়ে বই দেয়ার কোন সদোত্তর মেলে না প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে, টাকার বিনিময়ে বই নেয়ার ঘটনায় ইউএনওর কাছে অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ দায়ের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দায়ের করা উপজেলার পয়সা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মাকসুদ হাসান ও রুবেল শেখ জানান, স্কুলের দাবি করা ৪শ টাকা পরিশোধ করে তাদের ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন বই সংগ্রহ করতে হয়েছে। একইভাবে যারা বই সংগ্রহ করেছেন তাদের সবারই বিনামূল্যের বই পেতে গুনতে হয়েছে টাকা। ওই ৪শ টাকা না দেয়া পর্যন্ত নতুন বই পায়নি তারা। এর মধ্যে ৩শ ৫০টাকায় বই এবং ৫০ টাকা ভর্তি ফি’র জন্য নেয়া হলেও স্কুল থেকে প্রদান করা রশিদে বই বা ভর্তি ফি কোনটাই নির্দ্দিষ্ট করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানকে টাকার রশিদ প্রদান করতে বলায় তাদের ৪শ টাকার দুটি রশিদ দেয়া হয়েছে মাত্র।

একই ভাবে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সরকারের নতুন বই বিতরণের অভিযোগ রয়েছে রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির শিক্ষার্থীর অভিভাবক পত্রিকা বিক্রেতা সিরাজ হাওলাদারসহ অনেকেই জানিয়েছেন তারা বছরের প্রথম দিন বই পায় নি। আর স্কুল থেকে জানানো হয়েছে পুরান বই জমা দিয়ে নতুন বই সংগহ করতে সাড়ে ৪শ টাকা লাগবে। বছরের প্রথম দিন টাকা নিয়ে বই সংগ্রহ করতে আসা অভিভাবকদের অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়। বিষয়টি নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অবহিত হলে ওই দুটি স্কুল কর্তৃপক্ষ অবহিত হয়ে টাকা আদায়ের নতুন কৌশল হিসেবে ওই দিন হাতে গোনা কিছু শিক্ষার্থীদের বই দিয়ে দুপুরের আগেই তা বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেযা হয়, সকল নতুন বই আসেনি, আজ পুরান বই জমা নেয়া হবে পরে নতুন বই প্রদান করা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহায়ক মন্টু রঞ্জন হালদার জানিয়েছে, নতুন বই বিতরণের জন্য স্কুলে পুরান বই জমা নেয়ার কোন বিধান নাই এবং নতুন বই পেতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা আদায় করা যাবে না। তবে উপজেলায় বইয়ের সংকট রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পয়সা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, স্কুল থেকে বিনা মূল্যে বই প্রদান করা হচ্ছে। তবে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন অনুযায়ি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফরম বাবদ ৫০টাকা, মিলাদ ও পুজার ফি বাবদ ৮০টাকা, ভর্তি ফি ২২০টাকা এবং ভর্তি পরীক্ষা বাবদ ৫০ টাকাসহ মোট ৪শ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই টাকার রশিদও প্রদান করা হয়েছে।

স্কুলের প্রদান করা রশিদে টাকা আদায়ের কোন খাতের উল্লেখ না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন এটা হয়তো যে রশিদ কাটে তার ভুল।

রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন- টাকা দিয়ে বই নেয়ার ব্যাপারে তার জানা নাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ তিনি ব্যবস্থা নেবেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]