বরগুনায় এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করলো ঠিকাদার

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ৭ শুক্রবার, ২০২১, ০৭:৪৫ অপরাহ্ণ
বরগুনায় এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করলো ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বরগুনা সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিরাজকে মারধর করেছে ফরহাদ জোমাদ্দার নামের এক ঠিকাদার।  বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেল  ৪ টার দিকে উপজেলার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঠিকাদার দাবি করছে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই করেন না প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। উল্টো মার খাওয়ার পর পা ধরে মাফ চেয়েছেন প্রকৌশলী। আর প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের দাবি ঠিকাদার ফরহাদ জোমাদ্দার তার এলাকার বড় ভাই। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমি লজ্জিত।

ঘটনার  প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, আমি উপজেলা পরিষদের ভবনের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়ানো ছিলাম। তখন অফিসের সামনের রাস্তায় ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দার ও প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের মধ্যে বাকবিতন্ডা দেখতে পাই। ঠিকাদার ফরহাদ জমাদার প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে বলতেছিলেন- অফিসে চলেন। স্বাক্ষর করবেন আর সাইট পরিদর্শনে যেতে হবে। তখন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন- আমি ডিসি অফিসে যাচ্ছি জরুরী কাজে। এ কথা নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। পরে আমরা কয়েকজন নিচে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মোঃ ফরহাদ জোমাদ্দার বলেন, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান একজন অসৎ কর্মকর্তা। ঘুষ ছাড়া তার কলম চলে না। ঘুষের জন্য তিনি আমার জামানতের টাকা আটকে রেখেছেন। বরগুনার অনেক ঠিকাদারের টাকা তিনি আটকে রেখেছেন আবার অনেকে ঘুষ দিয়ে জামাতের টাকা পেয়েছেন। আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার কাজ করবেন না। এজন্য আমি তাকে মেরেছি। পরে আবার তার পা ধরে মাফ চেয়েছি। ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বরগুনার আমতলী পাড় এলাকায় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন বলেও জানান এই ঠিকাদার। এছাড়াও এ ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এ প্রকৌশলী অঢেল সম্পত্তি গড়েছেন বলেও অভিযোগ এই ঠিকাদারের।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ফরহাদ জমাদ্দার আমার এলাকার বড় ভাই। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ অনাকাক্সিক্ষত  ঘটনা ঘটে।

বরগুনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস কে আরিফুল ইসলাম সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তরিকুল ইসলাম বলেন, এরকম কোন ঘটনা আমি শুনিনি তবে কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]