বাস চালু দ্বিতীয় দিনেই নিয়ম-নীতি উধাও

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ৭ শুক্রবার, ২০২১, ০৮:৪৩ অপরাহ্ণ
বাস চালু দ্বিতীয় দিনেই নিয়ম-নীতি উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক>> লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীতে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো গণপরিবহন চলাচল করছে।

 

স্বাস্থ্যবিধিসহ যথাযথ নিয়ম মেনে গণপরিবহনে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বিধিনিষেধের পর বাস চলাচলের প্রথম দিনে কিছুটা মানা হলেও দ্বিতীয় দিনেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না পরিবহন চালকরা।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, শিশুমেলা ও ধানমন্ডি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন শ্রমিকদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক ছিল না। সচেতনতা ছিল না যাত্রীদের মধ্যেও। জীবাণুনাশকের ব্যবহারও দেখা যায়নি বললেই চলে।

 

দুপুরে কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠছেন। অনেক সময় কোনো সিট খালি রাখা হচ্ছে না। দাঁড়িয়েও যাচ্ছে লোকজন। কারও কারও মুখে নেই মাস্ক।

 

সকালের দিকে বাসগুলো কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাসগুলোতে একই অবস্থা দেখা গেছে।

 

জানতে চাইলে ঠিকানা পরিবহনের এক হেলপার জানান, শুক্রবার হওয়ায় যাত্রী নেই। দেখেন বেশিরভাগ সিট ফাঁকা। এরমধ্যে আবার প্রচণ্ড গরম। নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাস্ক থুতনির নিচে নামিয়ে রাখতে হচ্ছে।

 

গাবতলীতে থাকা একটি বাসের চালক বলেন, যাত্রীই কম তো মাস্ক পরে কি আর করব! প্রজাপতি বাসের হেলপারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে থুতনি থেকে মাস্ক টেনে উপরে উঠিয়ে নিজের নাম উল্লেখ না করে বলেন, মাস্ক পরলেই কী হবে আর না পড়লেই কী হবে? করোনা কি বসে আছে!

 

এ বিষয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, পুরোদমে বাস চালু না হবার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে যার ফলে একজন মানুষ অনেকের সংস্পর্শে আসছেন। নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করার কারণে এমনটা হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

 

এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পুরোদমে বাস চালু করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, পর্যাপ্ত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পারলে করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই মিলবে। পাশাপাশি যাত্রীদের মুখে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতেও পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে সরকার। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অর্ধেক যাত্রী এবং বর্ধিত ভাড়ায় গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। তবে আন্তঃজেলা বাস বন্ধই রাখা হয়।

 

সবশেষ আগামী ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে বুধবার (৫ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, তাতে বলা হয়, শুধুমাত্র জেলার মধ্যে গাড়ি চলতে পারবে। আন্তঃজেলা বাসের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে যাত্রীবাহী ট্রেন ও নৌযান চলাচল।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]