তজুমদ্দিনে কোটি টাকা ব্যয়ে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের অস্তিত্ব বিহীন ৩শ কেন্দ্র। 

Barisal Crime Trace -IS
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১ মঙ্গলবার, ২০২২, ০৯:০২ অপরাহ্ণ
তজুমদ্দিনে কোটি টাকা ব্যয়ে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের অস্তিত্ব বিহীন ৩শ কেন্দ্র। 
তজুমদ্দিন  প্রতিনিধি: ভোলার তজুমদ্দিনে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা) কোন কার্যক্রম চলছে না তজুমদ্দিনে! অথচ, ভোলা সেবা সংঘ নামের একটি এনজিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে ৩০০ স্কুলের অনুমোদন পান। গত ৮ ডিসেম্বর হতে উপজেলার নিরক্ষর ও বয়োবৃদ্ধ মানুষদের অক্ষরজ্ঞান দানের লক্ষ্যে এসব স্কুল চালু হওয়ার কথা। কিন্ত, নামমাত্র প্রকল্পের উদ্ভোদন দেখিয়ে কাগজে কলমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান থাকলেও উপজেলার কোথাও এর অস্তিত্ব নেই।

সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রকল্পে আওতায় নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩০০ স্কুল কেন্দ্রে এ কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার। কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ভোলা সেবা সংঘ নামের একটি এনজিও। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী পৃথক সময়ে শিক্ষার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এসব কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের তদারকী করতে ১৫ জন সুপারভাইজার ও একজন প্রোগ্রাম অফিসারও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগকৃতদের বেতন ও সম্মানীসহ শিক্ষা উপকরণ ও কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহ করতে এনজিওকে প্রায় কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ দেয় সরকার। ইতিমধ্যে কেন্দ্র চালু না হলেও প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসারের সহায়তায় বিভিন্ন খাতের প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে বাস্তবায়নকারী এনজিও ভোলা সেবা সংঘ।

গত ৮ ডিসেম্বর হতে উপজেলার নিরক্ষর ও বয়োবৃদ্ধ মানুষদের অক্ষরজ্ঞান দানের লক্ষ্যে এসব স্কুল চালু হওয়ার কথা। নিয়মানুযায়ী ৩শ’টি কেন্দ্রে বিকেলে নারী ও সন্ধ্যায় পুরুষ শিক্ষার্থীরা পাঠদান করবে। ৩০০ শিখন কেন্দ্র প্রস্তুত না করেই ঘটাকরে গত ১৩ নভেম্বর উপজেলার মধ্য চাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউএনও মরিয়ম বেগম-কে দিয়ে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু দেড় মাসেও ৮/১০ টি কেন্দ্র ছাড়া শুরু হয়নি এ শিক্ষা কার্যক্রম।

বিভিন্ন এরাকার সুপারভাইজারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে উপকরণ না পাওয়ায় তারা কার্যক্রম চালু করতে পারছেন না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুর রহমান শাহিন উপজেলা সকল কেন্দ্র চলমান থাকার দাবী করলেও তার কাছে ৩০০ শিখন কেন্দ্র ও শিক্ষকের তালিকা চাইলে তা পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের উদ্বোধনের দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি জানান, প্রতিটির কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকী করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রেরণ করছেন।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মরিয়ম বেগমের কাছে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে আমাকে কোন কিছু অবহিত করছেনা, প্রযোজনীয় কাগজপত্র ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার জন্য প্রোগ্রাম অফিসার কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]