তদন্ত নিয়ে প্রধান শিক্ষকের তালবাহানা

ঝালকাঠি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮২ হাজার টাকা লোপাট!

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৭ বৃহস্পতিবার, ২০২২, ০৪:০৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮২ হাজার টাকা লোপাট!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে স্কুল তহবিলের ৮২ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপত জেলা প্রশাসকের অজান্তে এ অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানাগেছে।

এ ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাজানির পর প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দিলে অজ্ঞাত কারনে ৭ মাসেও তিনি রিপোর্ট প্রদান করেনি। গত ২৬ জানুয়ারী বরিশাল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে খোজ নিলে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক প্রতিবেদন দেননি বলে জানাগেছে ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাইদ মোঃ ফরিদ কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে সহকারী প্রধান শিক্ষিক হোসনে আরা আরজু কে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক পদে নিয়োগ পেলে বিগত ৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখ তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর সত্বেও শিক্ষক ফরিদ সোনালী ব্যাংক স্থানীয় শাখায় কারেন্ট হিসাব নং ১০০২৬০৫৫২ থেকে ১২ এপ্রিল ২৫হাজার, ৭ এপ্রিল হিসাব নং-১০০২৮৬৫২৮ থেকে ১২ হাজার, ১১ এপ্রিল সেভিংস হিসাব নং-১০০২৬০৬২২ থেকে ২০হাজার ও একই তারিখ সেভিংস হিসাব নং-১০০২২৮৬৮১ থেকে আরো ২৫ হাজার সহ মোট ৮২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এঘটনা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্রে জানায়, অবৈধ এ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে বরিশাল আঞ্চলিক উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন গত ১৪ জুন ২০২১ তারিখ ৩৭.০২.১০০০.০০০.১১.৯৯.২১/৪০৬ নং স্মারকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষক কে নির্দেশ দেন।

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরজু গত ১৬আগষ্ট ফরিদ হোসেনের লিখিত জবানবন্দি গ্রহন করে আঞ্চলিক উপপরিচালকের নিকট পাঠায়। উক্ত জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, উত্থাপিত অভিযোগ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তিনি ১৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখ হোসনে আরা আরজুকে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক পদে আর্থিক দায়িত্বসহ বুজিয়ে দিয়েছেন।

অথচ দায়িত্বভার অর্পন পত্রে দেখা গেছে, বরিশাল আঞ্চলিক উপপরিচালক কার্যালয়ের ২৯ মার্চ ২০২১ তারিখে নং-৩৭.০২.১০০০.০০০.২.২১.২৫৪ স্মারক পত্র মোতাবেক গত ৫ এপ্রিল ২০২১ইং স্মারক নং-২২৭৪ পত্রে সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আবু সাইদ মোঃ ফরিদ দায়িত্বভার অর্পন ও প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) পদে হোসনে আরা আরজু দায়িত্ব গ্রহন করেছেন।

এ অবস্থায় আঞ্চলিক উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিগত ৪ নভেম্বর ও ১৩ ডিসেম্বর পৃথক দুটি স্মারক পত্রে ‘বিগত ১৬আগষ্ট ২০২১ তারিখে নং-২৪১৫ স্মারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরজু প্রেরীত প্রতিবেদনে’ তদন্ত কর্মকর্তার সুষ্পষ্ট মতামত নেই মর্মে উল্লেখ করেন। তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর শিক্ষক ফরিদ চেকের মাধ্যমে কোন অর্থ উত্তোলন করেছে কিনা সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরনের জন্য নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে কয়েক জন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষিক হোসনে আরা আরজু অত্র বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক পদে ৫ এপ্রিল দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গত অদ্য ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত একমাসেও কর্মস্থলে হাজির হয়নি। এসময় অলিখিত ভাবে শিক্ষক ফরিদ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আরজুকে ২৬ জানুয়ারী বুধবার একাধিক বার বিদ্যালয়ে গিয়েও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত সেল (০১৭১৫৪৭৩৪৫২) ফোনে কয়েকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা প্রেরন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]