নাজিরপুরের দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২০ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৫:১৯ অপরাহ্ণ
নাজিরপুরের দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের নাজিরপুরে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগসমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান। তাকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ওই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবার দিতে বলা হয়েছে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই কারণ দর্শনোর নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিত এ কারণ দর্শানোর নোটিশে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং তা তদন্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে ওই ইউনিয়নের ১২ ইউপি সদস্যের  (মেম্বার) মধ্যে ১১ ইউপি সদস্য ওই চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ন-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার  অভিযোগ এনে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রদান করেন।

গত ২ মে পিরোজপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চৌধুরী রওশন ইসলাম ওই সব অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করেন।

এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, একটি কুচক্রী মহল আমাকে বিপদে ফেলতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ছয়বারের চেয়ারম্যান ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মালেক বেপারি।

গত ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত  নৌকা প্রতীক নিয়ে পরের বছর ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিলের অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উত্তম কুমার মৈত্র।

তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দকৃত নৈলতলা জ্যোতি প্রকাশ রায়ের বাড়ির নিকট একটি লোহারপুল মেরামত বাবদ দুই লাখ, খেজুরতলা সপ্তগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন লোহারপুল মেরামত বাবদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, গত অর্থবছরে ৭৮ হাজার টাকায় মধুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে থাকা লোহারপুলের কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎসহ এলজিএসপি ৩-এর আওতায় প্রতি বছর বরাদ্দকৃত ১৮-২০ লাখ টাকার কাজ নিজের খেয়ালখুশিমতো প্রকল্প দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।

ইউপি সদস্যদের দেওয়া কাজ বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দের এবং ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক টিআর-কাবিখা কাজেরও তাকে ৩০ শতাংশ উৎকোচ দিতে হয়।  বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, পঙ্গুভাতা, হরিজনভাতা, মৎস্য ভিজিএস কার্যক্রম, দুস্থ  সাহায্যের তালিকাসহ গভীর নলকূপ প্রদানে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের  অভিযোগ রয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]